নয়াদিল্লি: রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতকে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই ছাড় সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থ সচিব Scott Bessent।
তিনি জানান, এই অনুমোদন মূলত সমুদ্রে ইতিমধ্যেই আটকে থাকা রুশ তেলের লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভ হবে না বলেই দাবি মার্কিন প্রশাসনের।
সমুদ্রে আটকে বিপুল রুশ তেল
একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এশিয়ার জলপথে বর্তমানে প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল রাশিয়ান তেল বহনকারী জাহাজ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এই সাময়িক অনুমোদন কেবলমাত্র ৫ মার্চের আগে জাহাজে লোড করা রুশ তেল ও পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এই ছাড় কার্যকর থাকবে ৪ এপ্রিল, ওয়াশিংটন সময় রাত ১২টা ০১ মিনিট পর্যন্ত। এরপর নতুন করে অনুমতি না থাকলে লেনদেন করা যাবে না।
হরমুজ প্রণালী সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
এরই মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষের জেরে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz।
এই পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে ব্যারেল প্রতি দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৪ ডলার, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ২০০ ডলার প্রতি ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

বিশ্বে তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট
বিশ্বে মোট অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই রুট কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহের উপর চাপ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর দু’পাশে প্রায় ১,০০০ তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানা গেছে।
ভারতের উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা
ভারত তার মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫–৪০ শতাংশ তেল আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে।
ফলে পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের জ্বালানি খরচ ও অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দ্রুত বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম
যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬৫ ডলার।
এরপর
- ২ মার্চ: প্রায় ৭১ ডলার
- বৃহস্পতিবার: প্রায় ৮৩.৪০ ডলার প্রতি ব্যারেল
সংঘাত অব্যাহত থাকলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মত জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের।






