১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | একুশে পা নিউজ ডেস্ক
শীতের মাঝেই রাজ্যজুড়ে বড় উদ্বেগ। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দুই তরুণী নার্স। বয়স যথাক্রমে ২২ ও ২৫ বছর। দু’জনেই বর্তমানে বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ-তে ভর্তি এবং সেখানেই তাঁরা কর্মরত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, আক্রান্তদের একজন পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার বাসিন্দা। তিনি ডিসেম্বরের শেষদিকে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়ভাবে ভর্তি করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বারাসতের ওই হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অপর নার্সের বাড়ি নদিয়ায়। দু’জনের কারও সাম্প্রতিক রাজ্যের বাইরে ভ্রমণের ইতিহাস নেই।
সংক্রমণ ছড়ানোর প্রমাণ নেই, তবু সতর্ক প্রশাসন
এখনও পর্যন্ত ওই দুই নার্স ছাড়া নতুন করে আর কারও নিপা সংক্রমণের তথ্য সামনে আসেনি। তবে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত বৈঠকে বসে রাজ্য সরকার। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি (SOP) পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার চালু করেছে দুটি হেল্পলাইন নম্বর—
033-2333-0180
98747-08858
স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে এবং সবাইকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসচিবের বার্তা: আতঙ্ক নয়, নজরদারিতে রাজ্য
স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম স্পষ্ট করে জানান,
“আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। রাজ্য পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে নিপা পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো রয়েছে। আক্রান্ত দুই নার্সের পরিবারের সদস্যদেরও নিবিড় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
SOP সম্পূর্ণ কার্যকর, বাদুড়-সংস্পর্শ এড়ানোর পরামর্শ
মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে জানান,
“SOP সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হয়েছে।”
নিপা ভাইরাসের মূল বাহক হিসেবে বাদুড়কে চিহ্নিত করা হয়। সেই কারণে প্রশাসনের তরফে বাদুড়ের সংস্পর্শে আসা কোনও ফল বা খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য জুড়ে হাসপাতালগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






