নিজস্ব প্রতিনিধি, বালেশ্বর: জনপ্রিয় টেলি-অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। ওড়িশার তালসারি সৈকতে শ্যুটিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে প্রোডাকশন হাউসের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলছে স্থানীয় প্রশাসন। ওড়িশা পুলিশ ও স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতির দাবি, শ্যুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও অনুমতিই নেওয়া হয়নি। এমনকি বিপদে জীবন বাঁচানোর জন্য ছিল না কোনও লাইফ গার্ড বা চিকিৎসকের ব্যবস্থা।


শ্যুটিংয়ের শেষ মুহূর্তের ছবি
পুলিশের বিস্ফোরক দাবি বালেশ্বরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গায়ত্রী প্রধান জানিয়েছেন, “শ্যুটিংয়ের জন্য আমাদের কাছে কোনও আগাম আবেদন করা হয়নি। দিঘা বা ওড়িশা—কোনও পক্ষ থেকেই অনুমতি নেওয়া হয়নি।” একই সুর শোনা গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহার গলায়। নিয়ম অনুযায়ী, সমুদ্রে শ্যুটিং করতে গেলে পুলিশ, কোস্টাল বিভাগ এবং স্থানীয় ফিশারম্যান সোসাইটির অনুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু রাহুলের ক্ষেত্রে এই সব নিয়মই বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
লাইফ গার্ড থাকলে কি বাঁচানো যেত? স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শ্যুটিং স্পটে লাইফ সেভিং বোট বা প্রশিক্ষিত ডুবুরি থাকলে হয়তো রাহুলকে বাঁচানো সম্ভব হতো। তালসারির স্থানীয় বাসিন্দা দীনবন্ধু বেহরার কথায়, “আমাদের এখানকার ছেলেরা সাঁতার জানে। একজন স্থানীয় লোক সাথে থাকলেও ওকে টেনে তোলা যেত। কিন্তু ওরা কোনও সাহায্যই চায়নি।”
পাল্টা সাফাই প্রোডাকশন হাউসের যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রোডাকশন হাউসের কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত অনুমতি ছিল। নিরাপত্তার সব ব্যবস্থাই করা হয়েছিল। কো-অর্ডিনেটরদের মাধ্যমেই আমরা এই ব্যবস্থাগুলি নিশ্চিত করি।” তবে সেই কো-অর্ডিনেটর কারা এবং কেন ঘটনাস্থলে কোনও উদ্ধারকারী দল ছিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
Quick Info Box (সংক্ষেপে তথ্য)
- ঘটনা: শ্যুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু।
- স্থান: তালসারি সৈকত, ওড়িশা।
- অভিযোগ: পুলিশি অনুমতি ও লাইফ গার্ডের অভাব।
- তদন্ত: ওড়িশা পুলিশ ও আর্টিস্ট ফোরাম তদন্ত শুরু করেছে।






