অপারেশন সিঁদুরে সাহসী ভূমিকা, রাষ্ট্রপতির হাতে জাতীয় পুরস্কার পেল ১০ বছরের শ্রবণ

অপারেশন সিঁদুরে সাহসী ভূমিকা, রাষ্ট্রপতির হাতে জাতীয় পুরস্কার পেল ১০ বছরের শ্রবণ

নয়াদিল্লি:
‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে নজির গড়েছিল পঞ্জাবের এক দশ বছরের বালক। প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও প্রতিদিন জল, দুধ, লসসি, চা ও বরফ পৌঁছে দিয়েছিল সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানদের কাছে। সেই অসামান্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে শ্রবণ সিংহ-কে এবার Pradhan Mantri Rashtriya Bal Puraskar প্রদান করল কেন্দ্রীয় সরকার।

শুক্রবার রাষ্ট্রপতি Droupadi Murmu নিজে শ্রবণের হাতে এই সম্মান তুলে দেন।

সীমান্তের দুই কিলোমিটার দূরের গ্রাম থেকে সেনার পাশে

শ্রবণ পঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার তারা ওয়ালি গ্রামের বাসিন্দা। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে তাদের গ্রামের দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু হওয়ার পর গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়। সেই সময়ই কোনও নির্দেশ বা প্রত্যাশা ছাড়াই সেনাবাহিনীর সাহায্যে এগিয়ে আসে শ্রবণ।

নিজে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে না থাকলেও নিয়ম করে প্রতিদিন সেনাদের কাছে পানীয় ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিত সে। ঝুঁকির কথা জেনেও একদিনের জন্য পিছিয়ে আসেনি এই চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

অপারেশন সিঁদুরে সাহসী ভূমিকা, রাষ্ট্রপতির হাতে জাতীয় পুরস্কার পেল ১০ বছরের শ্রবণ

“পুরস্কারের কথা ভাবিনি”—বলছে শ্রবণ

রাষ্ট্রপতির হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার পেয়ে আপ্লুত শ্রবণ। তবে তার স্পষ্ট বক্তব্য,

“কোনও পুরস্কারের আশায় কিছু করিনি। অপারেশন শুরু হলে মনে হয়েছিল, সেনাদের পাশে থাকা দরকার। তাই রোজ দুধ, চা, লসসি নিয়ে যেতাম। আজ এত বড় সম্মান পাব, ভাবিনি।”

সেনা আধিকারিকদের কথায়, কোনও অনুরোধ ছাড়াই নিজের উদ্যোগে রেশন ও পানীয় নিয়ে হাজির হত শ্রবণ। পরিবারের তরফেও তাকে কখনও বাধা দেওয়া হয়নি।

আগেই সেনার স্বীকৃতি, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ফৌজি হওয়া

শ্রবণের এই অবদান ভারতীয় সেনার কাছেও অজানা নয়। গত মে মাসেই সেনার এক শীর্ষ আধিকারিক তাকে সম্মানিত করেন। ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়াই এখন শ্রবণের একমাত্র স্বপ্ন। তার কথায়,

“বড় হয়ে ফৌজি হতে চাই। দেশের সেবা করতে চাই।”

ছেলের সাহসিকতায় গর্বিত পরিবারও। শ্রবণের বাবার বক্তব্য, “আমরা গর্বিত। সেনারাও ওকে নিজের ছেলের মতো ভালবাসে।”

অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপট

গত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সূচনা হয়। ভারত-পাকিস্তান সংঘাত তীব্র আকার নেয়। সেই সময় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। পাল্টা আক্রমণও সফলভাবে প্রতিহত করা হয়।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!