কলকাতা: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠানের সময় একাধিক ব্যক্তি মাঠে নেমে এসে লিয়োনেল মেসি-র খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় বিরক্ত হয়েছিলেন ফুটবল তারকা—এমনই দাবি করেছে ধৃত মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত। রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর জেরায় এই তথ্য উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর।
শুক্রবার রাতে সিটের আধিকারিকেরা দীর্ঘক্ষণ জেরা করেন শতদ্রুকে। জেরায় মাঠে প্রবেশের জন্য বিশেষ কার্ড ইস্যু, কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব কার হাতে ছিল—এই সব বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়।
সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে মাঠে প্রবেশের জন্য ১৫০টি কার্ড ইস্যু করার পরিকল্পনা ছিল। পরে সেই সংখ্যা বাড়ানো হয়। কেন এই সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল, কার নির্দেশে বৃদ্ধি করা হয় এবং কারা মাঠে প্রবেশের অনুমতি পান—এই সমস্ত বিষয়েই বিস্তারিত জানতে চান তদন্তকারীরা।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, মেসিকে ভারত সফরে আনতে কর-সহ প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি করেছেন শতদ্রু। স্পনসর, টিকিট বিক্রি এবং অন্যান্য রাজ্যে মেসির সফর থেকেই এই অর্থের সংস্থান করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। সূত্রের খবর, শতদ্রুর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ২২ কোটি টাকা রয়েছে, যা শীঘ্রই ফ্রিজ় করতে পারে তদন্তকারী সংস্থা।
ঘটনার দিন যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে ক্রমাগত জটলা তৈরি হওয়ায় গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকেরা ঠিক মতো তাঁকে দেখতে পাননি বলে অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতি থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় এবং পরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তদন্তকারীদের কাছে শতদ্রু দাবি করেন, মেসি যখন বিরক্ত হয়ে পড়ছিলেন, তখন তিনি মাঠ থেকেই মাইকে ঘোষণা করে সবাইকে দূরে থাকার অনুরোধ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, যুবভারতীকাণ্ডের তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটির সুপারিশেই চার সদস্যের সিট গঠন করে রাজ্য পুলিশ। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে ওই দল।





