মার্গশীর্ষ অমাবস্যা ২০২৫ কবে? জানুন তিথি, পূজা-পদ্ধতি ও গুরুত্ব

মার্গশীর্ষ অমাবস্যা ২০২৫ কবে? জানুন তিথি, পূজা-পদ্ধতি ও গুরুত্ব

কলকাতা: ২০২৫ সালে মার্গশীর্ষ অমাবস্যা পড়ছে ২০ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার। পঞ্জিকা অনুযায়ী এদিন পূর্বপুরুষের শান্তির উদ্দেশে পিতৃতর্পণ, তিলতর্পণ, পিণ্ডদান ও দান-পুণ্যের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অনেক পরিবারে বিষ্ণু-লক্ষ্মী আরাধনা ও সত্যনারায়ণ ব্রতও পালিত হয়।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, অমাবস্যা তিথি শুরু হবে ১৯ নভেম্বর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে, আর শেষ হবে ২০ নভেম্বর দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে। মূল পালনের দিন ২০ নভেম্বর

ভোরে পবিত্র স্নান, সূর্যদেবকে অর্ঘ্য প্রদান, তিল অর্পণ, শিব বা বিষ্ণুর পূজা—এই সব রীতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। বিশেষ করে নদীর তীরে পিতৃতর্পণকে শাস্ত্রে অত্যন্ত শুভ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বাস, এই তিথিতে উপবাস, দান-পুণ্য ও পিতৃতর্পণ করলে পূর্বপুরুষের মোক্ষলাভ হয় এবং ঘরে আসে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য।

মার্গশীর্ষ অমাবস্যা ব্রত-পূজা পদ্ধতি (Vrat Puja Vidhi)

✔️ ১. পবিত্র স্নান ও তিল অর্পণ

ভোরে নদী, পুকুর বা যেকোনো পবিত্র জলাশয়ে স্নান করে প্রবাহমান জলে তিল অর্পণ করতে হয়।
গায়ত্রী মন্ত্র জপ বা নারায়ণ নাম স্মরণ করে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য দেওয়াকে অত্যন্ত শুভ ধরা হয়।

✔️ ২. পারিবারিক নিয়ম অনুযায়ী শিব বা বিষ্ণু পূজা

পারিবারিক রীতি অনুযায়ী মহাদেব বা ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করা হয়। বিশেষ করে ভগবান নারায়ণ-লক্ষ্মীর পূজা অত্যন্ত ফলদায়ক।

✔️ ৩. পিতৃতর্পণ ও পিণ্ডদান

পবিত্র নদীর তীরে পিতৃতর্পণ, পিণ্ডদান করলে পূর্বপুরুষদের মোক্ষলাভ ও শান্তি লাভ হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।

✔️ ৪. দিনভর উপবাস পালন

এই ব্রত পালনের সময় পানি না খেয়ে উপবাস করার প্রচলন আছে।

✔️ ৫. দান-পুণ্য

অন্ন, বস্ত্র, জুতো, শস্য, তিল ইত্যাদি গরিব মানুষ বা ব্রাহ্মণকে দান করলে পাপক্ষয় ও সৌভাগ্যের বৃদ্ধি হয়।


সত্যনারায়ণ পূজা: এই দিনেই কেন বিশেষ?

অনেকে সত্যনারায়ণ ব্রতলক্ষ্মী-নারায়ণ পূজা করেন মার্গশীর্ষ অমাবস্যায়।

  • দেবালয়ে বা ঘরে ভগবান বিষ্ণুর প্রতিমা বা ছবি স্থাপন করে পূজা করা হয়।
  • ক্ষীর বা দুধের পায়েস অর্পণ করা হয়।
  • ‘সত্যনারায়ণ কথা’ পাঠের মাধ্যমে পূজা শেষ হয় এবং ভক্তদের প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

বিশ্বাস, এই পূজা করলে পরিবারে শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।


মার্গশীর্ষ অমাবস্যার গুরুত্ব

  • পিতৃপূজা করলে পূর্বপুরুষের মোক্ষপ্রাপ্তি হয়।
  • তিলতর্পণ ও পিণ্ডদান পাপক্ষয় করে এবং আত্মিক শান্তি দেয়।
  • এই অমাবস্যা ‘অত্যন্ত পুণ্যকর’ বলে মানা হয়—বিষ্ণু-লক্ষ্মীর কৃপায় জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।
  • উপবাস ও দান-পুণ্য করলে মনশুদ্ধি, মানসিক শান্তি ও শুভফল পাওয়া যায়।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!