নিজস্ব প্রতিবেদন:
শেষ পর্যন্ত নিজের অস্তিত্ব জানান দিল শীত! বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত ও মেঘের বাধা কেটে যাওয়ায় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবেশ করতে শুরু করেছে ঠান্ডা ও শুকনো ‘উত্তুরে’ হাওয়া। এর প্রভাব পড়েছে গোটা রাজ্যজুড়ে—বিশেষত দক্ষিণবঙ্গে।
কলকাতায় মরশুমে প্রথমবার শনিবার রাতে পারদ নামল ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ২৯ এপ্রিলের পর প্রথমবার ২০ ডিগ্রির নীচে নেমে এলো শহরের রাতের তাপমাত্রা। ফলে রবিবার সকাল থেকেই শহরবাসীর মুখে একটাই কথা—“এবার সত্যিই শীত আসছে!”
রাজ্যজুড়ে তাপমাত্রার চিত্র
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের ১৫টি জেলার মধ্যে কেবল কৃষ্ণনগর, সল্টলেক, সাগরদ্বীপ, কাঁথি ও ঝাড়গ্রাম বাদে বাকিদের সর্বত্রই শনিবার রাত তিনটের মধ্যে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নীচে নেমে যায়।
উত্তরবঙ্গেও একই চিত্র—দার্জিলিং সর্বনিম্ন ১১ ডিগ্রি, দক্ষিণবঙ্গে শ্রীনিকেতন ১৪.৫ ডিগ্রিতে সবচেয়ে ঠান্ডা। এরপর বাঁকুড়া (১৪.৯°C) ও পুরুলিয়া (১৫°C)।
আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানাচ্ছেন, “আগামী চার–পাঁচ দিন এমন পারদপতন অব্যাহত থাকবে বাংলায়। দিন ও রাত দুইয়েরই তাপমাত্রা কমতে থাকবে।”
শীতের পথে পশ্চিমবঙ্গ
অক্টোবর পর্যন্ত চলা টানা বর্ষার পর এখন বাংলায় শীতের হাওয়া স্পষ্ট। পুজোর পর থেকেই ঠান্ডার প্রতীক্ষায় রাজ্যবাসী।
কাশ্মীরে প্রথম তুষারপাতের পরই শীত নামার ইঙ্গিত মিলেছিল, এবার সেই বাস্তব চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলায়।
তবে আবহবিদরা এখনই বলছেন না যে “লেপ–কম্বল বার করার সময় এসে গেছে।” তাঁদের মতে, কলকাতায় জোরালো শীত সাধারণত ডিসেম্বর থেকেই শুরু হয়, কিন্তু বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে অনেক আগেই শুরু হয় হাড়–কাঁপানো ঠান্ডা।
ভারতের উত্তর ও মধ্যভাগেও ঠান্ডার ঢেউ
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, কেবল বাংলা নয়, উত্তর ও মধ্য ভারতের বিশাল এলাকাতেও শীতের আগমন শুরু হয়ে গিয়েছে।
রাজস্থানের পূর্ব দিক, মধ্যপ্রদেশের পশ্চিমাংশ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার বেশ কিছু অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচে নেমে আসছে।
শুক্রবার দেশের সমতলভূমির মধ্যে সবচেয়ে ঠান্ডা ছিল আগ্রা (১০.১°C)। শনিবার রাতে ইন্দোর ও রাজগড়ে তাপমাত্রা নেমেছে ১০ ডিগ্রিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “উত্তর ও মধ্য ভারতে ঠান্ডা স্থায়ী হলে খুব শিগগিরই তার প্রভাব পড়বে বাংলায়ও।”
শীতের প্রস্তুতি শুরু করুন এখনই
রাজ্যজুড়ে ধীরে ধীরে কমছে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। শহরজুড়ে দেখা যাচ্ছে কুয়াশার ছোঁয়া, সকালে চায়ের দোকানে ভিড় বাড়ছে, আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাসছে #WinterIsHere পোস্ট।
এই মুহূর্তে মৌসম ভবনের বার্তা স্পষ্ট: আগামী সপ্তাহে পারদ আরও নামবে, এবং বাংলার শীত-যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে পারে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই।
এবার সত্যিই শীতের আগমন নিশ্চিত! আপনি কি প্রস্তুত কলকাতার প্রথম ঠান্ডা সকালে হাঁটতে বেরোতে?
কমেন্টে লিখুন — “আমি প্রস্তুত শীতের জন্য!”






