টলিপাড়ায় এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—জিতু কমল এবং দিতিপ্রিয়া রায়ের ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্ব। জনপ্রিয় একটি রোম্যান্টিক সিরিয়ালের শুটিং সেটে দুই তারকার মধ্যে অশান্তি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে চ্যানেল, প্রোডাকশন হাউস থেকে শুরু করে দর্শক—সবার মনেই প্রশ্ন উঠছে, এবার কি তবে বন্ধ হতে চলেছে টিআরপি-শীর্ষে থাকা এই সিরিয়াল? সোশ্যাল মিডিয়ায় জিতু কমলের বিস্ফোরক অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
অশান্তির কেন্দ্রে জিতু–দিতিপ্রিয়ার তীব্র মনোমালিন্য
দাসানি ২ স্টুডিওতে শুটিং চলছে ঠিকই, কিন্তু নায়ক-নায়িকার মধ্যে যে ঠান্ডা লড়াই চলছে, তা পুরো ইউনিটের পরিবেশকে ভারী করে তুলেছে। শোনা যাচ্ছে, জিতু ও দিতিপ্রিয়া দু’জনেই নাকি সারাদিন একে অপরের মুখ দেখেননি।
দিতিপ্রিয়া এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। কিন্তু জিতু সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলাখুলি লিখেছেন, সহ-অভিনেত্রী তাঁর সঙ্গে শট দিতে রাজি নন। এমনকি ক্রিয়েটিভ টিমের কয়েকজন তাঁকে সিরিয়াল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর।
এই পরিস্থিতি শুধুই দুই অভিনেতার ব্যক্তিগত সমস্যা নয়—এটি পুরো শো-এর স্থিতাবস্থাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। চ্যানেল এবং প্রযোজনা সংস্থা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, “এভাবে আর চলতে পারে না।”

দর্শক-প্রিয় সিরিয়াল কি সত্যিই বন্ধ হওয়ার পথে?
এই জনপ্রিয় সিরিয়াল বর্তমানে টিআরপি তালিকার শীর্ষে। ফলে প্রধান জুটির দ্বন্দ্ব শুধু ইউনিট নয়—চ্যানেলেরও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ক্রমাগত নেগেটিভ পাবলিসিটি নিয়ে চ্যানেল অত্যন্ত বিরক্ত।
টলিপাড়ায় গুঞ্জন—যদি সমস্যা না মেটে, তবে সিরিয়াল বন্ধ পর্যন্ত হতে পারে।
এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা শুধু প্রযোজনা সংস্থার নয়—হাজার হাজার দর্শকের কাছেও বড় ধাক্কা হবে।
আজ সন্ধ্যায় এসভিএফ-এর রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই সমস্যার সমাধানে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে খবর।
সেখানেই নির্ধারিত হবে—সিরিয়াল সচল থাকবে, নাকি নতুন সিদ্ধান্ত আসবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় জিতুর বিস্ফোরক পোস্ট: কী অভিযোগ তুললেন তিনি?
জিতু তাঁর ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন—
- দিতিপ্রিয়া তাঁকে “খারাপ মানুষ” বলেছেন।
- সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে অভিনয়ের যোগ্য নন—এমন মন্তব্য করেছেন।
- এমনকি শরীর খারাপ বলে সেটে না আসার বিষয়টিও নাকি ‘মিথ্যে নাটক’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
এই অভিযোগগুলি প্রকাশ্যে আসার পরই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। দর্শক বিভক্ত হয়ে যায় দুই শিবিরে—কারও মতে জিতু সাহস করে সত্যি বলেছেন, আবার কারও মতে ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে আনা উচিত হয়নি।
এমন ঘটনা শুধু দুই তারকার ভাবমূর্তি নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

এবার কি মিলবে সমাধান—নাকি বন্ধের পথে হাঁটবে মেগা?
এই প্রথম নয়—আগেও জিতু ও দিতিপ্রিয়ার মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছিল। তখন প্রোডাকশন টিম মধ্যস্থতা করে সমস্যা মিটিয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেকটাই গুরুতর।
সকলের চোখ এখন এসভিএফ-এর রুদ্ধদ্বার বৈঠকের দিকে।
যদি সমস্যা মেটে, তবে সিরিয়াল পূর্বের মতোই চলবে।
আর যদি না মেটে, তবে টলিপাড়ার এই অন্যতম জনপ্রিয় সিরিয়াল হয়তো অকালমৃত্যুর দিকে এগোবে।

জিতু কমল ও দিতিপ্রিয়া রায়ের দ্বন্দ্ব যে বাংলা বিনোদন দুনিয়ায় বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বলাই যায়। এই সংঘাতের জেরে শুধু একটি সিরিয়ালের ভবিষ্যৎ নয়—দর্শকদের ধৈর্য, প্রযোজনা সংস্থার ভাবমূর্তি এবং পুরো শিল্পের পেশাদারিত্বও প্রশ্নের মুখে।
আজকের বৈঠকই নির্ধারণ করবে—
টলিপাড়ায় শান্তি ফিরবে, না কি আরও বড় পরিবর্তনের দিকে এগোবে ইন্ডাস্ট্রি?






