জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণের আরাধনা
আজ (Janmashtami 2025) সারা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। এই শুভ দিনে ঘরে ঘরে ও মন্দিরে ভক্তরা সেজে ওঠেন কৃষ্ণ আরাধনায়। মথুরা, বৃন্দাবন থেকে শুরু করে নবদ্বীপ-মায়াপুর— সর্বত্রই শোনা যায় “হরে কৃষ্ণ” নাম।

কেন নিবেদন করা হয় ৫৬ ভোগ?
জন্মাষ্টমীর দিন কৃষ্ণকে নিবেদন করা হয় ছাপ্পান্ন ভোগ (56 Bhog)। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, বৃন্দাবনে যখন ইন্দ্রদেবের রোষে টানা সাতদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি চলছিল, তখন গ্রামবাসীদের রক্ষা করতে শ্রীকৃষ্ণ নিজের কনিষ্ঠ আঙুলে গোবর্ধন পর্বত তুলে ধরেছিলেন।
এই সময়টিতে কৃষ্ণ একবিন্দু খাদ্যও স্পর্শ করেননি। সাতদিন অনাহারে কাটানোর পর, ভক্তরা শ্রদ্ধা জানাতে তাঁকে অর্পণ করেন ৭ দিন × ৮ প্রহর = ৫৬ পদ। এরপর থেকেই জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণকে নিবেদন করা হয় ছাপান্ন ভোগ।
পৌরাণিক কাহিনির ব্যাখ্যা
হিন্দুশাস্ত্র মতে, আগে বৃন্দাবনবাসীরা ইন্দ্রকে সন্তুষ্ট করতে নানা রকম ভোগ নিবেদন করতেন। কিন্তু কৃষ্ণ বলেছিলেন, দেবতাদের জন্য মহার্ঘ ভোগ নয়, আন্তরিকতাই আসল। কৃষ্ণের পরামর্শ মতো ইন্দ্রকে কম ভোগ নিবেদন করলে ইন্দ্র রুষ্ট হন এবং প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়।
গ্রামবাসীরা বিপদে পড়ে কৃষ্ণের দ্বারস্থ হন। শ্রীকৃষ্ণ গোবর্ধন পর্বত তুলে সকলকে আশ্রয় দেন। এই সময় অনাহারে থাকা কৃষ্ণকে ভক্তরা পরে ৫৬ পদে ভোগ নিবেদন করেন। সেই থেকেই এই রীতি প্রচলিত।
৫৬ ভোগে কী কী থাকে? (Krishna Janmashtami 56 Bhog List)
৫৬ ভোগে সাধারণত থাকে ভাত, ডাল, লুচি, মাখন, দই, ক্ষীর, মিষ্টি, ফল, শুকনো ফল, নোনতা ও নানা প্রকার খাবার। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- মিষ্টি পদ: মালপোয়া, মোহনভোগ, রসগোল্লা, চন্দ্রকলা, লাড্ডু, জিলিপি, রাবড়ি, ক্ষীর।
- নোনতা পদ: লুচি, বড়া, কচুরি, পাপড়, চাটনি।
- ফল ও শুকনো ফল: কলা, আঙুর, আপেল, বাদাম, কিশমিশ।
- দুগ্ধজাত পদ: দুধ, দই, মাখন, ঘি, মালাই।
মোট ৫৬ ধরনের খাবার শ্রীকৃষ্ণকে নিবেদন করা হয়।
কীভাবে তৈরি হয় ছাপান্ন ভোগ?
ভোর থেকেই শুদ্ধাচারে রান্না শুরু হয়। ভক্তরা সাধারণত হলুদ বস্ত্র পরে রান্না করেন এবং অনেক সময় মুখ কাপড়ে ঢেকে রান্না করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী—
- ১৬ ধরনের জলখাবার
- ২০ ধরনের মিষ্টি
- ২০ ধরনের শুকনো ফল ও ফলমূল
এইভাবে মোট ৫৬ ভোগ প্রস্তুত করে নিবেদন করা হয় কৃষ্ণকে।
উপসংহার
জন্মাষ্টমী কেবল ভক্তির উৎসবই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৌরাণিক কাহিনি, বিশ্বাস ও ভালোবাসার অটুট বন্ধন। ৫৬ ভোগ নিবেদনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করেন এবং মনে করেন, এই ভোগ নিবেদন করলে ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ হয়।





