কলকাতা: ম্যাচের রঙ পাল্টাতে সময় লাগল মাত্র ২৪ বল। যে ম্যাচ কেকেআরের পকেটে ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল, সেখানেই শেষবেলায় সাইক্লোন তুললেন ২১ বছরের তরুণ মুকুল চৌধুরী। শেষ ৪ ওভারে ৫৪ রান তুলে ইডেনে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে (LSG) অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন রাজস্থানের এই ব্যাটার। ২৭ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংসে লখনউয়ের প্রথম জয়ের নায়ক তিনিই।
বাবার স্বপ্নপূরণ: দারিদ্র্য জয় করে উত্থান
ম্যাচ শেষে মুকুল শোনালেন তাঁর জীবনযুদ্ধের গল্প। মুকুলের কথায়, “আমার লড়াই শুরু হয়েছিল আমি জন্মানোর আগে থেকেই। আমার বাবা স্বপ্ন দেখতেন ছেলে বড় ক্রিকেটার হবে।” রাজস্থানের এই তরুণের শুরুটা সহজ ছিল না। চরম আর্থিক অনটনের কারণে ক্রিকেট খেলা শুরু করতে দেরি হয়েছিল। ১২-১৩ বছর বয়সে ভর্তি হন এসবিসি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে। এরপর খেলা শেখার তাগিদে জয়পুর থেকে দিল্লি—ক্রিকেটের নেশায় ঘর ছেড়েছেন মুকুল।
‘আগ্রাসন’ই সাফল্যের চাবিকাঠি
মিনি নিলামে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকা বেস প্রাইস ছিল তাঁর। অথচ তাঁকে পেতে ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা খরচ করেছিল লখনউ ম্যানেজমেন্ট। সেই আস্থার দাম দিলেন মুকুল। কেকেআর বোলারদের মাঠের বাইরে পাঠিয়ে তিনি বলেন, “আমার প্ল্যান খুব সহজ ছিল। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে চেয়েছিলাম। জানতাম ৪টি বল বোলার ভালো করলেও একটি বল আমার রেঞ্জে দেবেই, আর সেটাকেই ছক্কায় ওড়াব।”
ইডেনে হেলিক্প্টার শটে ছক্কা মেরে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। গত দুই ম্যাচে ছক্কা মারতে না পারার আক্ষেপ মিটিয়ে নিলেন ইডেন গার্ডেন্সেই। কেকেআর ক্যাপ্টেন অজিঙ্ক রাহানের লড়াকু ইনিংসকে ফিকে করে দিয়ে আপাতত আইপিএলের নতুন সেনসেশন এই মুকুলই।






