নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যে আগুনের হলকা। এপ্রিলের শেষে রেকর্ড গরমের মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আর এই চরম আবহাওয়ায় শিশু থেকে বয়স্ক—সবাই হিট স্ট্রোকের (Heat Stroke) তীব্র ঝুঁকির মুখে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ব্যাহত হলেই এই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘক্ষণ বাইরে কাজ করেন বা রোদে বেরোন, তাঁদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
শিশুদের ঝুঁকি কেন বেশি?
শিশুদের শরীরের ক্ষেত্রফল বড়দের তুলনায় কম এবং তাদের ঘর্মগ্রন্থি পুরোপুরি সক্রিয় নয়। ফলে শরীর থেকে তাপ সহজে বের হতে পারে না। এই কারণে তীব্র তাপপ্রবাহের সংস্পর্শে এলে তাদের শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বড়দের হিট স্ট্রোকের লক্ষণ ও করণীয়
বড়দের ক্ষেত্রেও হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলি অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে।
লক্ষণসমূহ:
- শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে যাওয়া।
- ঘাম বন্ধ হয়ে ত্বক শুকনো ও লালচে হয়ে যাওয়া।
- তীব্র মাথাব্যথা, বমি ভাব এবং বিভ্রান্তি বা অসংলগ্ন আচরণ।
- দ্রুত হৃদস্পন্দন ও শ্বাসকষ্ট।
বড়দের হিট স্ট্রোক হলে কী করবেন? ১. ছায়ায় নিয়ে যান: আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত রোদ থেকে সরিয়ে শীতল বা এসিযুক্ত স্থানে নিয়ে আসতে হবে। ২. শরীরের তাপমাত্রা কমান: ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিন। সম্ভব হলে বগল, ঘাড় এবং কুঁচকিতে বরফ বা আইসপ্যাক দিন। ৩. জলপান: জ্ঞান থাকলে ধীরে ধীরে জল বা ওআরএস পান করান। তবে অচেতন অবস্থায় জল খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। ৪. হাসপাতালে স্থানান্তর: পরিস্থিতি সামান্য জটিল মনে হলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সার্বিক সুরক্ষায় জরুরি ৫ সতর্কতা
১. পর্যাপ্ত হাইড্রেসন: তৃষ্ণা না পেলেও নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রচুর জল, ডাবের জল বা ওআরএস খান। ২. রোদে নিষেধাজ্ঞা: খুব প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বাইরে বেরোবেন না। ৩. পোশাক: হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক ব্যবহার করুন। গাঢ় রঙের পোশাক তাপ বেশি শোষণ করে। ৪. খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে সহজপাচ্য খাবার ও জলযুক্ত ফল (তরমুজ, শশা) ডায়েটে রাখুন। ৫. বিশেষ নজর: শিশু এবং ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের প্রতি এই সময়ে বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।






