নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: আজ চৈত্র পূর্ণিমা। দেশজুড়ে ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে হনুমান জয়ন্তী। শাস্ত্র মতে, ত্রেতা যুগে এই পুণ্য তিথিতেই শিবের অংশ হিসেবে পবনপুত্র হনুমান ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তর ও মধ্য কলকাতার বড় মন্দিরগুলি থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়ের বজরংবলীর থান— সর্বত্র ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়।
তিথি ও শুভ মুহূর্ত
২০২৬ সালের চৈত্র পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে ১ এপ্রিল সকাল ০৭:০৮ মিনিটে এবং তিথি সমাপ্ত হবে আজ ২ এপ্রিল সকাল ০৭:৪৪ মিনিটে। উদয় তিথি অনুযায়ী আজ সকাল থেকেই ব্রত ও পূজার আয়োজন চলছে।
পূজা পদ্ধতি ও উপবাস
আজকের দিনে হনুমানজির আশীর্বাদ পেতে বিশেষ কিছু নিয়ম পালনের বিধান রয়েছে:
- সংকল্প ও স্নান: ভোরে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরে ব্রহ্মচর্য পালনের সংকল্প করতে হয়।
- আসন: উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসে পূজা করা শুভ।
- ষোড়শোপচার পূজা: সিঁদুর, চন্দন, ধূপ-দীপ ও বিশেষ নৈবেদ্য (প্রধানত লাড্ডু বা বুন্দিয়া) দিয়ে ১৬টি উপাচারে পূজা করা হয়।
- পাঠ: এদিন অন্তত একবার ‘হনুমান চালিশা’ বা ‘সুন্দরকাণ্ড’ পাঠ করলে সমস্ত বাধা দূর হয় বলে বিশ্বাস।
- উপবাস: অনেকে নির্জলা উপবাস রাখেন, আবার অনেকে ফলমূল খেয়ে ব্রত পালন করেন।
পৌরাণিক মাহাত্ম্য
রামায়ণ অনুসারে, অঞ্জনার গর্ভে ও কেশরীর ঘরে হনুমানজির জন্ম। রাজা কেশরী ও অঞ্জনা ১২ বছর ধরে শিবের কঠোর তপস্যা করেছিলেন। তাদের ভক্তিতে তুষ্ট হয়ে মহাদেব পুত্ররূপে জন্মানোর বর দেন। পবনদেব (বায়ু) ভগবান শিবের তেজ অঞ্জনার গর্ভে সঞ্চার করেছিলেন বলে তাঁকে ‘পবনপুত্র’ বলা হয়। লঙ্কাকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা এবং শ্রীরামের প্রতি অবিচল ভক্তি আজও হিন্দু ধর্মে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।






