বলিউডের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার, পরিচালক ও প্রযোজক ফারাহ খান সম্প্রতি ‘Jo Jeeta Wohi Sikandar’ সিনেমার শুটিং নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ফারাহ জানান, সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুম্বন দৃশ্য ধারণের সময়, এক অভিনেতা রাজি না হওয়ায় দীপক তিজোরি সেই দৃশ্যটি করেন। তিনি আরও জানান, ছবিতে তিনি একসঙ্গে ছিলেন কোরিওগ্রাফার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (AD) — কিন্তু তবুও তাঁকে কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি।
ফারাহ খানের বক্তব্য: একাধিক ভূমিকায় কাজ, কিন্তু পারিশ্রমিক শূন্য!
১৯৯২ সালের কালজয়ী ছবি ‘Jo Jeeta Wohi Sikandar’, যেখানে আমির খান ও আইশা ঝুলকা অভিনয় করেছিলেন, সেটির নেপথ্যে ছিল অসংখ্য গল্প। ফারাহ খান তখন বলিউডে নবীন কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি জানান—
“আমি ছিলাম সিনেমার কোরিওগ্রাফার, সঙ্গে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরও। কিন্তু মজার বিষয় হলো, আমাকে এর জন্য এক টাকাও দেওয়া হয়নি!”
এই মন্তব্যে বলিউডে আবারও আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকে মনে করছেন, ফারাহ খানের এই মন্তব্য বর্তমান প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয় যে, ৯০-এর দশকে বলিউডে নতুনদের জন্য পরিশ্রমের সঙ্গে সঙ্গে ত্যাগও ছিল অপরিহার্য।
Farah Khan and Aamir Khan on Jo Jeeta Wohi Sikandar set
চুম্বন দৃশ্যের কাহিনি: যখন দীপক তিজোরি এগিয়ে এলেন
ফারাহ জানান, ছবির একটি চুম্বন দৃশ্যের জন্য প্রথমে নির্ধারিত অভিনেতা রাজি হননি। সেই সময়ে চুম্বন দৃশ্য বলিউডে এখনও ট্যাবু হিসেবে দেখা হত। তখন দীপক তিজোরি নিজে থেকে এগিয়ে এসে সেই দৃশ্যটি করতে রাজি হন।
ফারাহ বলেন—
“আমরা তখন একটা মিউজিক্যাল মন্টাজ শুট করছিলাম। এক অভিনেতা চুম্বন দৃশ্য করতে চাননি, তাই দীপক তিজোরি বললেন, ‘আমি করব।’ সেটাই ছিল প্রথমবার, যখন দৃশ্যটি সঠিকভাবে ধারণ করা সম্ভব হয়।”
এই ঘটনা শোনার পর অনেক দর্শক পুরনো সিনেমাটি নতুন করে দেখতে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ ৯০-এর দশকের সেই সিনেমাটির পিছনে এমন বাস্তব গল্প লুকিয়ে ছিল তা কেউ জানতেন না।
Deepak Tijori in Jo Jeeta Wohi Sikandar movie still
বলিউডের অতীত ও বর্তমানের পার্থক্য
ফারাহ খানের বক্তব্য শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং এটি বলিউডের কাজের সংস্কৃতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলনও। এখন যেখানে সহকারী পরিচালক ও কোরিওগ্রাফাররা নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পান, সেখানে ৯০-এর দশকে অনেকেই কাজ করতেন প্যাশন ও অভিজ্ঞতার জন্য।
এই প্রসঙ্গে ফারাহ বলেন—
“আজকের দিনে এইসব কাজ করলে সবাই ইনভয়েস পাঠায়। কিন্তু তখন আমরা শুধু শেখার জন্য কাজ করতাম, টাকায় নয়।”
তাঁর এই বক্তব্যে বলিউডের নেপথ্য কাহিনির এক অন্য চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে পরিশ্রম ও সুযোগের মধ্যে সীমা ছিল অস্পষ্ট।
উপসংহার:
ফারাহ খানের এই প্রকাশ্যে মন্তব্য আবারও প্রমাণ করে যে বলিউডে সাফল্যের পেছনে কত অনকথিত গল্প লুকিয়ে থাকে। তাঁর অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য এক বড় শিক্ষা—সাফল্যের পথ কখনও সহজ নয়। ‘Jo Jeeta Wohi Sikandar’-এর মতো একটি কালজয়ী ছবির নেপথ্যে যে এত নাটক ও ত্যাগ লুকিয়ে ছিল, তা আজও দর্শকদের বিস্মিত করে।