“নির্বাচনের নামে গুন্ডামি!” গাড়ি আটকানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাঝরাস্তায় তুমুল অশান্তি অভিনেতা অরিত্রর

"নির্বাচনের নামে গুন্ডামি!" গাড়ি আটকানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাঝরাস্তায় তুমুল অশান্তি অভিনেতা অরিত্রর

কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের উত্তপ্ত তিলোত্তমার রাজপথ। তবে এবার কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, বরং পুলিশের সঙ্গে প্রকাশ্য বিবাদে জড়ালেন টলিউডের পরিচিত মুখ অরিত্র দত্ত বণিক। অভিনেতার অভিযোগ, কোনো বৈধ অর্ডার ছাড়াই তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িটি নির্বাচনের কাজের জন্য আটকে দেয় ট্রাফিক পুলিশ। এই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

ঠিক কী ঘটেছিল?

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অরিত্রর গাড়িটি রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন ট্রাফিক গার্ডের কর্মীরা। অভিনেতার দাবি, তিনি যখন যাতায়াত করছিলেন, তখন হঠাৎই পুলিশ তাঁকে থামায় এবং জানানো হয় যে নির্বাচনের ডিউটির জন্য তাঁর গাড়িটি নিয়ে নেওয়া হবে।

অরিত্রর অভিযোগ:

  • বিনা নোটিশে তলব: কোনো পূর্ব নোটিশ বা লিখিত অর্ডার কপি ছাড়াই কেন গাড়ি আটকানো হলো, সেই প্রশ্ন তোলেন অভিনেতা।
  • ট্রাফিক পুলিশের ‘গুন্ডামি’: ভিডিওতে অরিত্রকে বলতে শোনা যায়, “ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ কর্মীরা গুন্ডামি করছে। আইন মেনে কথা বলছে না।”
  • আইনি প্রশ্ন: ব্যক্তিগত গাড়ি এভাবে হুট করে রাস্তায় আটকে নির্বাচনের জন্য নিয়ে নেওয়া যায় কি না, সেই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ তর্কাতর্কি চলে তাঁর।

ফ্যাক্ট চেক: নির্বাচনের জন্য গাড়ি নেওয়ার নিয়ম কী?

অরিত্রর এই প্রতিবাদের পর অনেকেই জানতে চাইছেন, আইন আসলে কী বলে? রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট (১৯৫১)-এর ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী:

  • নোটিশ বাধ্যতামূলক: প্রশাসন চাইলেই যে কোনো গাড়ি রিকুইজিশন করতে পারে, তবে তার জন্য আগে থেকে মালিককে লিখিত নোটিশ পাঠাতে হয়।
  • স্পট রিকুইজিশন: অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে রাস্তায় গাড়ি আটকানো হলেও, সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিককে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (District Election Officer) বা রিটার্নিং অফিসারের সই করা অর্ডার কপি দেখাতে হবে।
  • ক্ষতিপূরণ: গাড়ি নেওয়া হলে তার প্রতিদিনের ভাড়া এবং জ্বালানির খরচ সরকারকে দিতে হয়।
  • ব্যতিক্রম: যদি গাড়িতে কোনো রোগী থাকে বা গাড়িটি যদি অত্যাবশ্যকীয় কোনো কাজে যুক্ত থাকে, তবে তা ছাড় পাওয়া যায়।

জনমানসে প্রতিক্রিয়া

অরিত্রর এই সাহসী ভিডিওটি ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক মানুষ দেখেছেন। নেটিজেনদের বড় অংশই অভিনেতার পাশ দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের মতে, অনেক সময় পুলিশ নিয়ম না মেনে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করে, অরিত্রর প্রতিবাদ সেই অন্ধকার দিকটা সামনে নিয়ে এসেছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়

নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করে অরিত্র লেখেন, “পুলিশের সাথে পুনরায় লড়াই আমার। আমার নামে ব্যক্তিগত গাড়ি বিনা অর্ডারে থামিয়ে বলছে নির্বাচনের জন্যে গাড়ি নিয়ে নেওয়া হবে।” ভিডিওটি পোস্ট হতেই নেটিজেনদের একাংশ অরিত্রর পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, নির্বাচনের সময় সাধারণ নাগরিকদের কেন এভাবে হয়রানির শিকার হতে হবে?

তবে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক গার্ড বা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, নির্বাচনের সময় গাড়ি রিকুইজিশন করার নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও, সরাসরি রাজপথে গাড়ি আটকে এমন পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!