এনার্জি লকডাউন (Energy Lockdown): কোভিড অতীত, জ্বালানির অভাবে কি সত্যিই এবার থমকে যাবে সব? কী এই নতুন আতঙ্ক?

এনার্জি লকডাউন (Energy Lockdown): কোভিড অতীত, জ্বালানির অভাবে কি সত্যিই এবার থমকে যাবে সব? কী এই নতুন আতঙ্ক?

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: করোনা মহামারীর সেই ঘরবন্দি দিনগুলোর কথা আজও আমাদের স্মৃতিতে টাটকা। তবে এবার কোনো ভাইরাস নয়, বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক নতুন শব্দ— ‘এনার্জি লকডাউন’ (Energy Lockdown)। ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এবং লোহিত সাগরে অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন— তবে কি আবারও লকডাউনের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে আমাদের?

এনার্জি লকডাউন আসলে কী? (What is Energy Lockdown?)

সহজ কথায় বলতে গেলে, ‘এনার্জি লকডাউন’ কোনো সরকারি আইনি পরিভাষা নয়। এটি ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হওয়া একটি শব্দবন্ধ। যখন কোনো দেশের সরকার জ্বালানি বা বিদ্যুৎ বাঁচাতে যাতায়াত, অফিস বা বিদ্যুতের ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, তখন তাকেই নেটিজেনরা ‘এনার্জি লকডাউন’ বলছেন।

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA) ইতিমধ্যেই তেলের ব্যবহার কমাতে ১০ দফার একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে। যেখানে বলা হয়েছে:

  • সম্ভব হলে সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (Work From Home) করা।
  • হাইওয়েতে গাড়ির গতিবেগ ঘণ্টায় অন্তত ১০ কিমি কমিয়ে দেওয়া।
  • শহরগুলোতে বড় গাড়ি বা ব্যক্তিগত যানের বদলে গণপরিবহন ব্যবহার করা।
  • রবিবারগুলোতে বড় শহরে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা (Car-free Sundays)।

বিশ্বের বর্তমান চিত্র: প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থা কেমন?

বিশ্বের বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যেই জ্বালানি বাঁচাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

  1. পাকিস্তান ও ফিলিপিন্স: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সপ্তাহে ৪ দিন কাজের দিন ঘোষণা করা হয়েছে।
  2. বাংলাদেশ: বিদ্যুতের চাহিদা কমাতে স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং ভারতের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে ঢাকা।
  3. নিউজিল্যান্ড: সপ্তাহে একদিন ‘কার-ফ্রি’ ডে পালনের কথা ভাবছে সে দেশের সরকার।
  4. মায়ানমার ও কম্বোডিয়া: জ্বালানির অভাবে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

ভারত কি সুরক্ষিত? (Is India Safe from Fuel Crisis?)

ভারতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে লম্বা লাইন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া গুজবের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে ভারত সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো (যেমন IOCL, HPCL) স্পষ্ট জানিয়েছে যে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

  • ভারতে বর্তমানে অন্তত ৬০ দিনের পেট্রোল ও ডিজেল মজুত রয়েছে।
  • হরমুজ প্রণালীতে সমস্যা থাকলেও ভারত বিকল্প উৎস (যেমন পশ্চিম আফ্রিকা ও আমেরিকা) থেকে তেল সংগ্রহ করছে।
  • রান্নার গ্যাসের (LPG) সরবরাহে সাময়িক কিছু সমস্যা দেখা দিলেও ঘরোয়া উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।

আপাতত ভারতে ‘এনার্জি লকডাউন’ বা জ্বালানির হাহাকারের কোনো সরাসরি সম্ভাবনা নেই। তবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা বিবেচনা করে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত জ্বালানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া। অযথা আতঙ্কিত হয়ে পেট্রোল পাম্পে ভিড় না করার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। কারণ, সচেতনতাই হতে পারে এই সম্ভাব্য সংকটের আসল প্রতিষেধক।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!