ভারতীয় সিনেমার অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই। সোমবার, ২৪ নভেম্বর মুম্বাইয়ের আবাসনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন; সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন।
শোকের ছায়া বলিউডে। প্রয়াত তারকার শেষযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী হেমা মালিনী, কন্যা এষা ও অহনা, দুই পুত্র সানি ও ববি দেওল, পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন সহ শিল্প জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। কর্ণ জোহর সহ অসংখ্য তারকা শোকপ্রকাশ করেছেন।
১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’-র মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন ধর্মেন্দ্র। ছয় দশকেরও বেশি কেরিয়ারে ‘শোলে’, ‘ফুল অউর পাত্থর’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘আঁখে’, ‘রম্বল-রম্বল’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’—একাধিক স্মরণীয় সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বডি-ডাবল ছাড়াই অ্যাকশন দৃশ্যে নিজেকে তুলে ধরতেন—এই কারণেই পান ‘হি-ম্যান’ উপাধি।
ব্যক্তিগত জীবনেও বহু অধ্যায়। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গে চার সন্তান—সানি, ববি, অজিতা ও বিজেতা; পরে ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন ড্রিমগার্ল হেমা মালিনীকে—এষা ও অহনা তাঁদের সন্তান।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছিলেন রাজনীতিতেও সক্রিয়। লোকসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০০৪-২০০৯। তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাপ্ত হন দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার — পদ্মভূষণ (২০১২)।
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে শেষ হল ভারতীয় সিনেমার সোনালি অধ্যায়ের এক উজ্জ্বল পরিসমাপ্তি। আজও কোটি অনুরাগীর হৃদয়ে অমর হয়ে রইলেন ‘হি-ম্যান’।
🎬 ধর্মেন্দ্র : জীবন ও কেরিয়ারের বিশদ বিশ্লেষণ
✨ ক্যারিয়ার হাইলাইটস
- বলিউডে ৬০+ বছরের অধ্যায়
- ৩০০+ সিনেমা
- রোম্যান্স, কমেডি, অ্যাকশন — সবক্ষেত্রেই সমান সিদ্ধহস্ত
- অমিতাভ-ধর্মেন্দ্র জুটি: ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে আইকনিক
- ‘শোলে’র ‘বীরু’ চরিত্র—কালজয়ী
🎥 তাঁর সিনেমার মুখ্য অবদান
- বডি-ডাবল ছাড়া অ্যাকশন — বলিউডে অ্যাকশন-স্টার সংস্কৃতির সূচনা
- কমেডিতে অভূতপূর্ব টাইমিং
- সাধারণ মানুষের নায়ক — গ্রাম্য, রাফ-টাফ অথচ হৃদয়বান নায়ক চিত্রণে প্রথম সারিতে
🏆 সম্মাননা
- পদ্মভূষণ (২০১২)
- ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড
- অসংখ্য জনপ্রিয়তা পুরস্কার






