বিশালাকার ঘূর্ণিঝড় মন্থা শেষমেশ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ভূমি স্পর্শ করল। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে আতঙ্ক আর প্রস্তুতির পর, বাংলার সাধারণ মানুষ প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। কলকাতায় আবহাওয়া অত্যন্ত শান্ত থাকলেও দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের দিকে নজর ঘুরছে, কারণ এই অঞ্চলগুলিতে বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা ঘোষণা করেছে আবহাওয়া দপ্তর।

দক্ষিণবঙ্গ: ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি—বিশেষত উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম—২৮ ও ২৯ অক্টোবর থেকে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হতে চলেছে। বিদ্যুৎ লাইন এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, নিচু অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। মৎস্যজীবীদের আগামী কয়েকদিন সমুদ্রে না যেতে বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গ: সামান্য প্রভাব, বাড়ছে সতর্কতা
উত্তরবঙ্গের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকলেও, কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের পূ্র্বাভাস রয়েছে। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং, কালিম্পং অঞ্চলে ইয়েলো অ্যালার্ট জারি হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ফসল তাড়াতাড়ি ঘরে তুলতে এবং নিরাপদ স্থানে রাখতে।
কেন আসল স্বস্তি
ঘূর্ণিঝড় মন্থা ভূমি স্পর্শের সময় “উইন্ড শিয়ার” বা বৈপরিত্যর প্রভাবের ফলে তার শক্তি পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কমে যায়। ফলে প্রচণ্ড বিধ্বংসী ঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও, বৃষ্টিপাত ও মাঝারি ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যেই প্রচণ্ড ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সমাপ্তি
অবশেষে, ঘূর্ণিঝড় মন্থা পশ্চিমবঙ্গকে ব্যাপক ক্ষতি থেকে রক্ষা করলেও, দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গে এখানেও জলাবদ্ধতা, ফসলের ক্ষতি, এবং অভিযোজন প্রয়োজন। সকলকে সতর্ক থেকে আবহাওয়া বার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আপনার অভিজ্ঞতা কিংবা মতামত নিচে কমেন্ট করুন অথবা বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। আরো আপডেট পেতে আমাদের পেজ অনুসরণ করুন।






