নিজস্ব প্রতিবেদন: আজ থেকে শুরু হল হিন্দু ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব চৈত্র নবরাত্রি। হিন্দু চান্দ্র পঞ্জিকার প্রথম দিনে এই নবরাত্রির সূচনা হয় এবং টানা ৯ দিন ধরে দেবী শক্তির ৯টি অবতার—দুর্গার বিভিন্ন রূপের পূজা করা হয়।
প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে পালিত এই উৎসব চৈত্র মাসে অনুষ্ঠিত হয় এবং একে অনেক জায়গায় ‘রাম নবরাত্রি’ নামেও ডাকা হয়।
নবরাত্রির নবম দিনেই পালিত হয় রাম নবমী, যা ভগবান রামের জন্মতিথি হিসেবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে, শরৎ নবরাত্রির দশম দিন বিজয়া দশমী বা দশেরা হিসেবে উদযাপিত হয়, যেদিন রাম রাবণ বধ করেছিলেন।
মহারাষ্ট্রে এই উৎসব শুরু হয় গুড়ি পাড়োয়ার মাধ্যমে এবং অন্ধ্রপ্রদেশে উগাড়ি উৎসব দিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে এই সময়কেই হিন্দু নববর্ষের সূচনা হিসেবেও ধরা হয়।
🪔 পৌরাণিক কাহিনি ও গুরুত্ব
চৈত্র নবরাত্রির মূল তাৎপর্য হল ‘সৎ-এর জয়, অসৎ-এর পরাজয়’। পুরাণ অনুযায়ী, অসুর মহিষাসুর দেবতাদের পরাজিত করলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তি থেকে জন্ম নেন দেবী দুর্গা। পরে তিনি মহিষাসুরকে বধ করেন।
এই কারণেই দেবী শক্তির আরাধনার মাধ্যমে এই উৎসব পালিত হয়।
🪔 কলশ স্থাপনা (Kalash Sthapana) পুজোর নিয়ম
নবরাত্রির প্রথম দিন ঘরে বা কর্মস্থলে কলশ স্থাপনা করা হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে—
- সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার হতে হবে
- পূজার স্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে
- লাল কাপড় বিছিয়ে তার উপর চাল রেখে গণেশ মন্ত্র জপ করতে হবে
- মাটির বেদি তৈরি করে তাতে যব বীজ বপন করতে হবে
- কলশে জল ভরে বেদির উপর স্থাপন করতে হবে
- কলশে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকতে হবে
- ভিতরে সুপারি ও মুদ্রা রাখতে হবে, উপরে আমপাতা দিতে হবে
- নারকেল লাল কাপড় ও পবিত্র সুতো দিয়ে বেঁধে কলশের উপর বসাতে হবে
- শেষে ফুল অর্পণ করে ভক্তিভরে পূজা করতে হবে
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূজা জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য নিয়ে আসে।

🍲 নবরাত্রির উপবাসে কী খাবেন?
নবরাত্রির উপবাসে নিরামিষ ও বিশেষ কিছু খাবার খাওয়ার প্রথা রয়েছে। যেমন—
- সাবুদানা বড়া
- সাবুদানা খিচুড়ি
- সিংহাড়ার আটা হালুয়া
- কুট্টু আটা পুরি
- সিংহাড়া পাকোড়া
এই খাবারগুলি শরীরকে শক্তি দেয় এবং উপবাসের নিয়ম বজায় রাখতে সাহায্য করে।






