কীভাবে এক রাতেই বদলে গেল বাংলাদেশের পরিস্থিতি: সাংবাদিকদের চোখে দেখা ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা

কীভাবে এক রাতেই বদলে গেল বাংলাদেশের পরিস্থিতি: সাংবাদিকদের চোখে দেখা ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা
রাতভর তাণ্ডবের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাংলাদেশের প্রথম সারির দুই সংবাদপত্র—প্রথম আলো (উপরে) ও ডেইলি স্টার-এর (নীচে) দফতর।

ঢাকা: এক রাতেই যেন বদলে গেল বাংলাদেশের চেনা ছবি। শান্ত শহর ঢাকায় আচমকাই নেমে এল অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর আর আতঙ্ক। বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে লক্ষ্যবস্তু হল দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম। সাংবাদিকদের চোখের সামনে ভেঙে পড়ল নিরাপত্তা, প্রশ্নের মুখে পড়ল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

কীভাবে শুরু হল অশান্তি

সম্প্রতি এক ছাত্রনেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় বাংলাদেশে। এই ঘটনাকে ঘিরেই ধীরে ধীরে বিক্ষোভ দানা বাঁধে। প্রথমে প্রতিবাদ, তার পরেই পরিস্থিতি হাতছাড়া হয়ে যায়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় নামে বিক্ষুব্ধ জনতা। রাত যত বাড়তে থাকে, ততই হিংস্র রূপ নেয় আন্দোলন।

সংবাদমাধ্যমে হামলা, আগুনে পুড়ল অফিস

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছবি উঠে আসে ঢাকার সংবাদপাড়া এলাকা থেকে। একাধিক সংবাদপত্রের অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। অফিসের আসবাব, আর্কাইভ, প্রযুক্তি সরঞ্জাম—কিছুই রেহাই পায়নি। এরপর লাগিয়ে দেওয়া হয় আগুন।
রাতভর দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে সংবাদমাধ্যমের ভবন।

কীভাবে এক রাতেই বদলে গেল বাংলাদেশের পরিস্থিতি: সাংবাদিকদের চোখে দেখা ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা
রাতভর তাণ্ডব: সংবাদপত্রের দফতরের সামনে বিক্ষোভ, আগুনে জ্বলল ভবন

ছাদে আটকে পড়েন সাংবাদিকরা

সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো মুহূর্ত আসে যখন আগুন ও ধোঁয়ার মাঝে অফিসের ভিতর আটকে পড়েন বহু সাংবাদিক ও কর্মী। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা ছাদে উঠে যান। চারিদিকে ধোঁয়া, নিচে আগুন—কয়েক ঘণ্টা কার্যত মৃত্যু আতঙ্কে কাটে তাঁদের সময়।
একাধিক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফোনে প্রিয়জনদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলার আশঙ্কাও জেগেছিল অনেকের মনে।

সেনার হস্তক্ষেপে উদ্ধার, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়

শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে। বিশেষ অভিযানে আটকে পড়া সাংবাদিকদের উদ্ধার করা হয়। প্রাণে বাঁচলেও মানসিক আতঙ্ক এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁদের।

এই ঘটনায় ফের একবার বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে—বাংলাদেশে সাংবাদিকরা কতটা নিরাপদ? সংবাদমাধ্যম কি ক্রমেই সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে?

কেন সংবাদমাধ্যমই টার্গেট?

বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে সত্য তুলে ধরা সংবাদমাধ্যমই প্রায়শই রোষের মুখে পড়ে।

সামনে আরও অশান্তির আশঙ্কা?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ।

এক রাতের এই ঘটনা শুধু সংবাদমাধ্যমে হামলার গল্প নয়। এটি গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে এক গভীর সতর্কবার্তা। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সে প্রশ্ন এখন সবার মনেই।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!