অভির জন্মদিনে বিশেষ প্রতিবেদন: কেন নন্দিতা-শিবপ্রসাদের হাতেই সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় ফুটে ওঠেন Abir Chatterjee?


বাংলা সিনেমার বর্তমান প্রজন্মে যাঁদের কাজ ধারাবাহিকভাবে দর্শকদের মন জয় করে, তাঁদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন অভির চট্টোপাধ্যায়। আর তাঁর সৃজনশীল যাত্রার সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার নিঃসন্দেহে পরিচালক-প্রযোজক জুটি নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
অভির জন্মদিনে তাই আবারও উঠে আসে এই ত্রয়ীর অসাধারণ রসায়ন—একসঙ্গে কাজ করলে তাঁদের সংযোজন যে নতুন মানদণ্ড তৈরি করে, তার প্রমাণ মিলেছে একাধিক ব্লকবাস্টার ছবিতে।


মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি থেকে শুরু—বিশ্বাস ও সৃজনশীলতার যাত্রা

অভি–নন্দিতা–শিবপ্রসাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি দিয়ে। এই ছবিতে অভির চরিত্র যেন এক বিস্ময়কর দুনিয়ার দরজা খুলে দিয়েছিল দর্শকের সামনে। ছবির গল্পের জাদুবাস্তব পরিবেশে অভির অভিনয় ছিল সংযত, তবু হৃদয়স্পর্শী—যেখানে পরিচালক জুটির ভিশনের সঙ্গে তাঁর অভিনয় নিখুঁতভাবে মিশে গিয়েছিল।

এই প্রথম কাজেই পরিষ্কার হয় যে এই ত্রয়ীর মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক বিশ্বাস, স্বাধীনতা এবং শিল্পচর্চার নিখাদ নিবেদন। এখানেই তৈরি হয় ভিত্তি—যা পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী রূপ পায়।


ফাটাফাটি—সামাজিক বার্তা ও সূক্ষ্ম অভিনয়ের নিখুঁত সংমিশ্রণ

এরপর আসে ফাটাফাটি, পরিচালনায় অরিত্র মুখোপাধ্যায়। যদিও ছবির মূল ভাবনা ছিল শরীর-স্বীকৃতি ও সামাজিক বার্তা নিয়ে, অভির অভিনয় সেখানে এনে দেয় গভীরতা ও মানবিকতা। তাঁর চরিত্রের সংবেদনশীলতা, সংযত প্রকাশভঙ্গি ও দৃশ্যপটের সঙ্গে সহজ মেলবন্ধন দর্শকদের আরও কাছে নিয়ে যায় এই গল্পকে।

এই চলচ্চিত্র দেখায়—যে কোনও চরিত্রে অভির সূক্ষ্মতা পরিচালকরা যেভাবে ব্যবহার করতে চান, অভির হাতে তা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।


রক্তবীজ ও রক্তবীজ ২—বক্স অফিসে বজ্রপাতের পরিসংখ্যান

অভির তীব্রতা, অন্তর্মুখী শক্তি ও গভীর অভিব্যক্তির সবচেয়ে ঝলমলে উদাহরণ রক্তবীজ এবং রক্তবীজ ২। এই দুটি ছবিতে তাঁর পরিণত, সংযত অথচ দৃঢ় উপস্থিতি গল্পকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যায় যা নতুন নজির তৈরি করেছে বাংলা বক্স অফিসে।

ছবির উচ্চ-ঝুঁকির গল্প, দ্রুতগামী গতি ও থ্রিলারের টানটান উত্তেজনার মাঝে অভির অভিনয় দাঁড়িয়েছে স্থির নোঙরের মতো। দর্শক এবং সমালোচক—উভয় মহল থেকেই তাঁকে পাওয়া প্রশংসা প্রমাণ করে, নন্দিতা-শিবপ্রসাদের হাতে অভির প্রতিভা সবসময়ই সেরা আলোয় প্রকাশ পায়।


বহুরূপী—ত্রয়ীর সৃজনশীল শক্তির পুনরাবৃত্ত জয়

বহুরূপী প্রমাণ করে যে এই ত্রয়ীর সহযোগিতা শুধুই সফল নয়—এটি ধারাবাহিকভাবে বিবর্তিত হচ্ছে। নন্দিতা-শিবপ্রসাদের মানবিক গল্প বলার দক্ষতা এবং অভির চরিত্রে গভীরতা এনে দেওয়ার স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষমতা মিলেই তৈরি করেছে বছরের অন্যতম সেরা ছবি।

এই ছবিই নিশ্চিত করে—বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ গঠনে এই ত্রয়ীর অবদান শুধু তাৎপর্যপূর্ণ নয়, বরং দিকনির্ণায়ক।


নন্দিতা ও শিবপ্রসাদের বক্তব্য—অভির শক্তিই তাঁর আলাদা পরিচয়

পরিচালক জুটি জানিয়েছেন—
“অভির সঙ্গে কাজ করা সহজ কারণ তিনি প্রতিটি চরিত্রে আনেন সততা, বুদ্ধিমত্তা ও আবেগের সত্যতা। তিনি আমাদের ভাবনা বোঝেন, আমরা তাঁর শক্তি বুঝি—এই কারণেই আমাদের প্রতিটি সহযোগিতাই বিশেষ। অভি এমন একজন অভিনেতা যিনি গল্পকে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দেন কেবল তাঁর উপস্থিতিতেই।”

এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়—অভির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক শুধু পেশাদার নয়, বরং সৃজনশীল বন্ধনও অত্যন্ত গভীর।


রক্তবীজ ২ এখনও জোরদার দৌড়াচ্ছে, সামনে আরও নতুন প্রকল্পের ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে আবারও প্রমাণ হয়, বাংলা চলচ্চিত্রে অভির অবস্থান আজ আরও দৃঢ়।
নন্দিতা–শিবপ্রসাদের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা শুধু সফলতার পরিমাপ বাড়াচ্ছে না—বরং বাংলা সিনেমাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!