সোমবার জামিনে মুক্তির সব শর্ত পূরণ হওয়ায় অবশেষে মুক্তির স্বাদ পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে হুইল চেয়ারে বসে বেরিয়ে আসেন তিনি। সাড়ে তিন বছর পর ফের নিজের নাকতলার বাড়িতে পা রাখলেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে। তারপরই দুজনকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই থেকেই প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি ছিলেন পার্থ।
তিন বছর ধরে একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টে ইডির মামলায় জামিন পান তিনি, পরে সিবিআইয়ের মামলাতেও নিম্ন আদালতে জামিন মেলে। তবে তবুও মুক্তি মেলেনি, কারণ আদালতের নির্দেশ ছিল— এসএসসি গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি সহ তিনটি মামলায় ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি মুক্ত হবেন না।
সেই নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার অষ্টম সাক্ষ্যের রেকর্ড সম্পন্ন হয়। এরপরই পার্থর আইনজীবী আদালতে মুক্তির আবেদন জানান। আদালত অনুমোদন দেওয়ার পর প্রেসিডেন্সি জেল ও হাসপাতালে পৌঁছয় রিলিজ অর্ডার।
আজ, মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে হুইলচেয়ারে বসেই বের হন পার্থ। নাকতলায় বাড়িতে ফেরার সময় সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ। হাতে পোস্টার, তাতে লেখা— “বেহালা পশ্চিমে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেই চাই।”
চোখে জল নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “এখন কিছু বলব না।”
পটভূমি: এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সূত্র
২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ইডি ও সিবিআই। ইডির তল্লাশিতে পার্থ-অর্পিতা জুটি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়। সেই থেকেই দীর্ঘ বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় জেলবন্দি ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।
আজকের তাৎপর্য
দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর মুক্তি পাওয়ায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, তাঁর এই মুক্তি কি তৃণমূলের রাজনীতিতে নতুন কোনও অধ্যায় সূচনা করবে?
মূল তথ্য এক নজরে:
- গ্রেপ্তার: জুলাই ২০২২
- মামলা: এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি
- জেলবন্দি সময়কাল: সাড়ে তিন বছর
- মুক্তির কারণ: আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ
- ফেরার দিন: ১১ নভেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার
- ফেরার স্থান: নাকতলা, কলকাতা
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল পার্থর জেলমুক্তির ছবি ও ভিডিও। কেউ বলছেন “বিচারের জয়”, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন “বড় নেতাদের প্রতি আলাদা আচরণ কেন?”






