দশ বছর পর সাব-জুনিয়র ফুটবলে ভারতসেরা বাংলা! ফাইনালে দিল্লিকে ৩-০ হারিয়ে হ্যাটট্রিক সাগ্নিকের

দশ বছর পর সাব-জুনিয়র ফুটবলে ভারতসেরা বাংলা! ফাইনালে দিল্লিকে ৩-০ হারিয়ে হ্যাটট্রিক সাগ্নিকের
ট্রফি নিয়ে বাংলার সাব-জুনিয়র দল। ছবি: সংগৃহীত।

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! পুরো এক দশক পর সাব-জুনিয়র ন্যাশনাল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের সেরা হল বাংলা। বৃহস্পতিবার অমৃতসরের মাঠে দিল্লিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলার ছেলেরা।

এই জয়ের নায়ক মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের অনূর্ধ্ব-১৪ দলের ফুটবলার সাগ্নিক কুণ্ডু, যিনি ফাইনালে দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে কেবল ম্যাচের সেরা নয়, পুরো টুর্নামেন্টেরও সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর মোট গোল সংখ্যা— ১০

বাংলা এর আগে ১৪ বার সাব-জুনিয়র ট্রফি জিতেছে, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। এই রেকর্ড আজও অদ্বিতীয়।


ফাইনালে একতরফা আধিপত্য

প্রথমবার ফাইনালে উঠেও দিল্লি কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় এগিয়ে যায় বাংলা।

১২ মিনিটে সিদু সোরেনের দুর্দান্ত ড্রিবল ও পাস থেকে গোল করেন সাগ্নিক কুণ্ডু। ৪১ মিনিটে দিল্লি নেমে আসে দশ জনে, কারণ সাগ্নিককে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে থোইথোইবা।

৭৮ ও ৮২ মিনিটে আরও দুটি গোল করে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন সাগ্নিক। তিনটিই মূলত রক্ষণের ভুল ও ফিনিশিং দক্ষতার দারুণ মিশ্রণ।


বাংলার সোনার পথচলা

গ্রুপ পর্বে বাংলা ৩-০ হারিয়েছিল কর্ণাটককে, ৪-০ হারিয়েছিল অসমকে, এবং ৪-০ হারিয়েছিল উত্তরপ্রদেশকে।
সেমিফাইনালে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে হারিয়েছিল মণিপুরকে। ফাইনালে এসে আবারও অপ্রতিরোধ্য পারফরম্যান্স দিল ছেলেরা।


ক্রীড়ামন্ত্রীর অভিনন্দন

রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস টুইট ও বিবৃতির মাধ্যমে বলেছেন,

“বাংলা আবার ভারতসেরা হয়েছে! মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের ‘বেঙ্গল ফুটবল একাডেমি’-র পাঁচ খেলোয়াড় এই দলে খেলেছে— যা আমাদের গর্বের।”

তিনি বাংলার কোচ, খেলোয়াড়, এবং কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা দেন।


মোহনবাগান ও বেঙ্গল ফুটবল একাডেমির সাফল্য

বাংলার এই দলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের অনূর্ধ্ব-১৪ দলের ছয়জন খেলোয়াড় রয়েছে।
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে তৈরি বেঙ্গল ফুটবল একাডেমি থেকেও প্রথম একাদশে পাঁচজন নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন — অতনু মুর্মু, উরচিন সাহা, সবুজ মণ্ডল, সৌম্যদীপ বারুই ও সুমন গুইন।

বাংলার কোচ গৌতম ঘোষ বলেন,

“এই সাফল্য সম্পূর্ণ ফুটবলারদের পরিশ্রম ও মানসিক দৃঢ়তার ফল। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করবে এই ছেলেরা।”

আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত-ও চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বাংলা ফুটবলের এই সোনালী জয় প্রমাণ করে, সঠিক পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণ পেলে বাংলার ছেলেরা আবারও ভারতীয় ফুটবলে রাজ করতে পারে।
অমৃতসরের এই সাফল্য কেবল একদিনের নয়, বরং ভবিষ্যতের ভারতসেরাদের জন্মঘোষণা।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!