মুম্বই: জনপ্রিয় অভিনেতা পঙ্কজ ধীরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে। বিআর চোপড়ার কিংবদন্তি সিরিয়াল ‘মহাভারত’-এর কর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে ঘরে ঘরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই শোকের আবহেই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন তাঁর সহ-অভিনেতা মুকেশ খন্না, যিনি সিরিয়ালে ভীষ্ম পিতামহের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
মুকেশের দাবি, “সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, পঙ্কজ আসল ‘মহাভারত’ কখনও পড়েইনি। সে শুধু ‘মৃত্যুঞ্জয়’ পড়েছিল, যেটা কর্ণের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। তাই অনেক সময় মনে হতো, বিআর চোপড়ার সিরিয়ালে অনেক কিছু কম আছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মজা করে ওকে ‘কনভেন্ট পাণ্ডব’ বলতাম। কারণ ও আসল ‘মহাভারত’ পড়েনি। তবুও ওর অভিনয় ছিল অনবদ্য।”
‘মহাভারত’-এর স্মৃতি এবং দুই সতীর্থের জনপ্রিয়তা
বিআর চোপড়ার তৈরি ‘মহাভারত’ সিরিয়াল ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সৃষ্টি। এই সিরিয়াল থেকেই পঙ্কজ ধীর (কর্ণ) ও মুকেশ খন্না (ভীষ্ম) সর্বভারতীয় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁদের চরিত্র এতটাই বাস্তব মনে হয়েছিল দর্শকদের, যে অনেক জায়গায় কর্ণরূপে পঙ্কজকে পূজা করা হতো।
হরিয়ানা ও ছত্তীসগঢ়ের কয়েকটি অঞ্চলে পঙ্কজ ধীরের আদলে কর্ণের মূর্তি তৈরি হয় এবং তাঁর পায়ের কাছে ফুল নিবেদন করতেন ভক্তরা।
ক্যান্সারে লড়াই, শেষযাত্রায় বলিউড তারকারা
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন পঙ্কজ ধীর। অস্ত্রোপচার করিয়েও রোগ ফের ফিরে আসে। বুধবার তাঁর মৃত্যুতে বলিউডের বহু তারকা উপস্থিত ছিলেন শেষকৃত্যে — সলমন খান, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, সহ আরও অনেকে।
পঙ্কজের অভিনয় কেবল টিভি নয়, স্কুলের পাঠ্যবইয়েও জায়গা করে নিয়েছিল। ‘মহাভারত’-এর কর্ণ চরিত্রে তাঁর মুখচ্ছবি এখনো অমর হয়ে রয়েছে ভারতীয় দর্শকের মনে।
মুকেশ খন্নার স্মৃতিচারণ
মুকেশ বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম আমি কর্ণ বা অর্জুনের চরিত্রে অভিনয় করব। কিন্তু ঈশ্বর আমাকে ভীষ্মের চরিত্র দিলেন। আমার পাশে তখন কর্ণরূপে এল পঙ্কজ। ওর মধ্যে এক অদ্ভুত স্থিরতা ছিল। হয়তো বই পড়েনি, কিন্তু পর্দায় যেন আসল কর্ণকেই জীবন্ত করে তুলেছিল।”
দর্শকদের শোক ও স্মৃতি
গুফি পেন্টল (শকুনি), প্রবীণ কুমার (ভীম) এবং এখন পঙ্কজ ধীর — একে একে চলে যাচ্ছেন ‘মহাভারত’-এর সেই সোনালি প্রজন্মের তারকারা। দর্শকদের মধ্যে তাই গভীর আবেগ ও নস্ট্যালজিয়া।
এক দর্শক সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন — “আমাদের শৈশবের কর্ণ চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর মুখ আজও মহাভারতের পাতায় অমর।”






