নয়াদিল্লি: দেশের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। দেশজুড়ে আয়োজিত ১৯তম ‘রোজগার মেলা’য় (19th Rozgar Mela) ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ৫১,০০০-এরও বেশি চাকরিপ্রার্থীর হাতে সরকারি পদের নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। শনিবার সকাল ১১টায় আয়োজিত এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে দেশের মোট ৪৭টি কেন্দ্র থেকে নবনিযুক্ত যুবকেরা সরাসরি অংশ নেন।
শনিবারের এই অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ দেশের হাজার হাজার যুবকের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ৫১ হাজারেরও বেশি যুবক আজ থেকে তাঁদের নতুন দায়িত্ব নিতে চলেছেন। এঁরা প্রত্যেকেই ‘উন্নত ভারত’ (Viksit Bharat) গড়ার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে চলেছেন।”
এক নজরে ১৯তম রোজগার মেলা
- নিয়োগপত্রের সংখ্যা: ৫১,০০০-এর বেশি।
- মোট কেন্দ্র সংখ্যা: দেশজুড়ে মোট ৪৭টি স্থানে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- নিয়োগকারী প্রধান দপ্তরসমূহ: রেলমন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (আধা-সামরিক বাহিনী), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং আর্থিক পরিষেবা দপ্তর (ব্যাঙ্কিং সেক্টর)।
- মোট কর্মসংস্থান ট্র্যাক রেকর্ড: শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৯টি রোজগার মেলার মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ১২ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলো।
বৈদেশিক চুক্তি ও কর্মসংস্থান: কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি— এই পাঁচ দেশ সফর শেষ করে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নিউজরুমকে জানান, বিশ্বজুড়ে ভারতের যুবশক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
“সুইডেনের সঙ্গে এআই (AI) ও প্রযুক্তিগত চুক্তি, আমিরশাহির সঙ্গে সুপারকম্পিউটিং এবং নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি ASML-এর সঙ্গে টাটা ইলেকট্রনিক্সের (Tata Electronics) যে চুক্তি হয়েছে, তা ভারতের মাটিতে হাজার হাজার হাই-টেক কর্মসংস্থান তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক দুনিয়া আজ ভারতের বিকাশযাত্রার অংশীদার হতে চায়।” — প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
পাশাপাশি, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতি ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই প্রকল্প ভারতের ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। নবনিযুক্ত কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সরকারি চাকরি মানে ক্ষমতার প্রকাশ নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করার মাধ্যম।






