কলকাতা: টলিউডের অন্দরের ‘ব্যান সংস্কৃতি’ এবং ফেডারেশনের দাদাগিরি নিয়ে এবার নজিরবিহীন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee)। বুধবার বিকেলে টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে শিবপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের (Rudranil Ghosh) ডাকা একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকে হাজির হয়ে কার্যত ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বিগত দিনে ফেডারেশনের চাপের মুখে পড়ে ক্ষমা চাওয়ার নেপথ্য কাহিনি বলতে গিয়ে একপর্যায়ে চোখ ছলছল করে ওঠে অভিনেতার। স্পষ্ট জানান, সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়েই সেদিন দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
‘ছেলের মুখের দিকে চেয়ে ক্ষমা চেয়েছি’
২০২৫ সালে ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র (FCTWEI) সঙ্গে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্যদের একাংশের। সেই সময় আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে একটি ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চেয়ে পিছু হঠেন পরমব্রত।

এতদিন পর সেই ক্ষমার নেপথ্যের চাপ নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। রুদ্রনীলের বৈঠকে পরমব্রত বলেন,
“সেদিন আমার সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আর কোনও উপায় ছিল না তাই। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিষোদগার বা রাগ প্রকাশ করতে এখানে আসিনি। আপনাদের বাড়ির লোক ভাবি বলেই এই ব্যক্তিগত অপমানের কথাটা ভাগ করে নিলাম।”
তিনি আরও যোগ করেন, টলিউডে যেন প্রাক-২০১১ সালের (বাম আমল) কাজের পরিবেশ ও স্বাধীনতা ফিরে আসে।
রুদ্রনীলের বৈঠকে চাঁদের হাট
টলিউডের বর্তমান অচলাবস্থা এবং টেকনিশিয়ানদের ক্ষোভের কথা শুনতে বুধবার টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে বিশেষ বৈঠক ডাকেন রুদ্রনীল ঘোষ। সেখানে পরমব্রত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, সংগীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, প্রযোজক অশোক ধানুকা, ফিরদৌসুল হাসান, অভিনেতা সৌরভ দাস, পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীজিৎ রায়।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক টেকনিশিয়ান ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ বিশেষত স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তাঁদের ওপর হওয়া নানা অত্যাচারের বর্ণনা দেন। কাউকে খুনের হুমকি দেওয়া, আবার কারও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর মানসিক নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে আসে এই বৈঠকে।
সমাধানের আশ্বাস রুদ্রনীলের
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টলিউডের সমস্যা খতিয়ে দেখার জন্য রুদ্রনীলসহ চারজনকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ জানান, “আমাদের কাজ টলিউডের সমস্ত সমস্যা সংগ্রহ করে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে জানানো, যাতে সবার ভালো হয়।” ইন্ডাস্ট্রিতে ‘গুপী শুটিং’-এর বিলুপ্তি ঘটানোর পক্ষেই সওয়াল করেন তিনি।
অন্যদিক, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় দ্রুত নতুন ফেডারেশন গঠন ও পূর্ববর্তী মউ (MoU) চুক্তির শর্তগুলো খতিয়ে দেখার দাবি জানান। প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান বাংলায় একটি সক্রিয় প্রযোজক গিল্ডের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। শাসকদল বদলের পর টলিউডের ক্ষমতার অলিন্দে যে বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে, রবিবারের এই বৈঠক তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






