বিশ্বমঞ্চে এবার খাঁটি বাঙালিয়ানা! ধুতি-পাঞ্জাবিতে কানের রেড কার্পেট কাঁপালেন ‘লাফটারসেন’ নিরঞ্জন
চলতি বছর ৭৯তম বর্ষে পা দিল বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’ (Cannes Film Festival 2026)। আর এই আন্তর্জাতিক মঞ্চেই এক অভূতপূর্ব ইতিহাস গড়লেন বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা লাফটারসেন (Laughtersane) ওরফে নিরঞ্জন মণ্ডল। প্রথম কোনো বাঙালি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কানের ঐতিহ্যবাহী লাল গালিচায় সগর্বে হেঁটে আপামর বাঙালিকে গর্বিত করলেন তিনি।


আন্তর্জাতিক স্তরের এই গ্ল্যামারাস রেড কার্পেটে যেখানে সাধারণত তাবড় তারকারা নামী ও বিলাসবহুল পশ্চিমা ঘরানার পোশাকে ফ্রেমবন্দি হন, সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত হেঁটে নজর কাড়লেন নিরঞ্জন। কান সৈকতের চড়া আলোয় তিনি ধরা দিলেন একবারে খাঁটি ‘বাঙালিবাবু’র বেশে। তাঁর পরনে ছিল সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি এবং উপরে চাপানো কালো বন্ধগলা কোট (যাতে ছিল ঐতিহ্যবাহী কাঁথা স্টিচ ও জামদানির সূক্ষ্ম কাজ)। শুধু পোশাকই নয়, সাজ সম্পূর্ণ করতে তাঁর চোখে ছিল সাবেকি ফ্রেমের চশমা এবং হাতে শোভা পাচ্ছিল পুরনো দিনের একটি ক্লাসিক হাতঘড়ি। বিশ্বমঞ্চে নিজের শিকড় ও বাঙালি সংস্কৃতিকে এমন অনন্য উপায়ে তুলে ধরার এই কায়দা ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রেড কার্পেটে হাঁটার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে নিরঞ্জন জানান, তিনি বেশ কিছুটা নার্ভাস, তবে একই সাথে অত্যন্ত উত্তেজিত। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের চেনা গল্প, আলু-ফুলকপির মজার কিচ্ছা কিংবা ‘মিষ্টি বাপী’র মতো চেনা পারিবারিক রসদ নিয়ে যে কনটেন্ট তৈরি করা শুরু করেছিলেন, তা আজ তাঁকে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক আঙিনায় নিয়ে আসবে, তা যেন এখনও তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো।
তবে এই সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়েও নিজের অতীতকে ভোলেননি তিনি। ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর সমাজমাধ্যমে অনুরাগীদের সাথে একটি মজার অথচ আবেগঘন স্মৃতি ভাগ করে নেন নিরঞ্জন। ছাত্রজীবনে একবার গণিতের একটি সহজ ফর্মূলা
a² + b²
ভুলে যাওয়ায় তাঁর স্কুলের শিক্ষক মশাই আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তিনি জীবনে খুব বেশি দূর এগোতে পারবেন না। আজ কানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই শিক্ষকের কটূক্তিকেই যেন হাসিমুখে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন এই বাঙালি ইনফ্লুয়েন্সার।

গত বছর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘বীরাঙ্গনা’ ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখা নিরঞ্জন প্রমাণ করে দিলেন যে, সততা এবং নিজের শিকড়ের প্রতি টান থাকলে আঞ্চলিক কনটেন্ট নিয়েও বিশ্বজয় করা সম্ভব। ডিজিটাল ক্রিয়েটরদের এই জয়যাত্রা আগামী দিনে আরও বহু ভারতীয় ও আঞ্চলিক প্রতিভাকে বৈশ্বিক মঞ্চে তুলে ধরবে, এমনটাই আশা রাখছেন তাঁর অনুরাগীরা।






