কলকাতা: অভিনেতা রাহুল চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণের এক মাস পূর্ণ হলো আজ। শোকের মেঘ এখনও কাটেনি পরিবারে। বরং সময় যত এগোচ্ছে, শূন্যতার গভীরতা যেন আরও বেশি করে টের পাচ্ছেন পরিজনরা। এরই মাঝে ভাইয়ের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন ও পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে ময়দানে নেমেছেন তাঁর দাদা অনির্বাণ।

মায়ের দায়িত্ব এখন অনির্বাণের কাঁধে পেশার তাগিদে অনির্বাণ দীর্ঘ দিন প্রবাসে কাটিয়েছেন। বাড়িতে মা ও ছোট ভাই রাহুলই ছিলেন একে অপরের ছায়াসঙ্গী। আচমকা রাহুলের প্রস্থানে ভেঙে পড়েছেন তাঁদের মা। অনির্বাণ জানিয়েছেন, মাঝরাতেও ছেলের স্মৃতিতে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। এই কঠিন সময়ে মাকে মানসিকভাবে আগলে রাখাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। অনির্বাণ পরিকল্পনা করেছেন, যত দ্রুত সম্ভব মাকে নিজের কাছে বিদেশে নিয়ে যাবেন। ইতিমধ্যেই তাঁর পাসপোর্টের কাজ শুরু হয়েছে।

অপূর্ণ রয়ে গেল বিদেশের সেই পরিকল্পনা অনির্বাণ জানান, কিছু দিন আগেই দুই ভাই মিলে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করেছিলেন। কথা ছিল, মা ও রাহুলকে নিয়ে বিদেশে নিজের বাড়িতে সময় কাটাবেন তিনি। কিন্তু নিয়তির ফেরে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ভাইয়ের ছোটবেলার স্মৃতি আর শেষ মুহূর্তের আড্ডাগুলোই এখন অনির্বাণের একমাত্র সম্বল।
সহজ ও প্রিয়াঙ্কার পাশে পরিবার রাহুলের অকাল প্রয়াণে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও ছোট্ট ছেলে সহজ। ভাইয়ের ছেলে সহজের মানসিক দৃঢ়তা দেখে অবাক হচ্ছেন খোদ অনির্বাণও। তিনি জানিয়েছেন, সহজের বড় হয়ে ওঠা নিজের চোখে দেখে যেতে চেয়েছিলেন রাহুল, যা আর হলো না। তবে ভাইপোর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তিনি সর্বদা পাশে থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন।
ভাইয়ের অনেক পেশাগত পরিকল্পনা ও অসমাপ্ত কাজও এখন অনির্বাণের মাথায়। ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে উঠে বাস্তবের কঠিন লড়াইয়ে পরিবারের হাল ধরাই এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।






