নীলষষ্ঠী ২০২৬: কবে পালিত হবে?
২০২৬ সালে নীলষষ্ঠী পড়ছে ১৩ এপ্রিল, সোমবার। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি চৈত্র মাসের শেষ পর্বে পালিত হয় এবং চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
গ্রাম বাংলায় এই দিনটি ‘নীল পুজো’ নামেও পরিচিত এবং গাজন ও চড়ক উৎসবের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে।
নীলষষ্ঠীর মাহাত্ম্য কী?
নীলষষ্ঠী মূলত সন্তানের মঙ্গল কামনায় পালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রত।
- মায়েরা এই দিনে উপবাস রেখে সন্তানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করেন
- বিশ্বাস করা হয়, এই ব্রত সন্তানের জীবনের বিপদ-আপদ দূর করে
- মা ষষ্ঠীর আশীর্বাদে সন্তান নিরাপদ থাকে—এমন ধারণা প্রচলিত
একাধিক প্রচলিত বিশ্বাসে বলা হয়, এই দিনটি মহাদেবের ‘নীলকণ্ঠ’ রূপের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং শিব-পার্বতীর পবিত্র যোগের দিন হিসেবেও ধরা হয়।
🪔 পুজোর সময় ও শুভক্ষণ
নীলষষ্ঠীতে নির্দিষ্ট কোনও কঠোর মুহূর্ত না থাকলেও—
👉 সন্ধ্যাবেলা পুজো করাই সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়
এই সময় ‘নীল বাতি’ জ্বালানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রীতি হিসেবে মানা হয়।
পুজোর নিয়ম ও রীতি (Step-by-step guide)
✔️ উপবাস পালন
সারাদিন মায়েরা নির্জলা বা ফলাহার উপবাস করেন
✔️ শিবপুজো
সন্ধ্যায় শিবলিঙ্গে জল ও দুধ অর্পণ করা হয়
বেলপাতা, ফুল ও ফল নিবেদন করা হয়
✔️ নীল বাতি
সন্তানের মঙ্গল কামনায় প্রদীপ বা বাতি জ্বালানো হয়, যাকে ‘নীল বাতি’ বলা হয়
✔️ পুজোর উপকরণ
- পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু, চিনি)
- বেলপাতা ও ফুল
- গঙ্গাজল ও চন্দন
✔️ ব্রত ভঙ্গ
পুজোর পর ফল বা নিরামিষ আহার দিয়ে উপবাস ভাঙা হয়
লোকবিশ্বাস ও প্রচলিত কাহিনি
লোককথা অনুযায়ী, এক দম্পতি তাঁদের সন্তানদের বারবার হারাচ্ছিলেন। পরে মা ষষ্ঠীর উপদেশে নীলষষ্ঠীর ব্রত পালন করার পর তাঁদের সন্তানের জীবন সুরক্ষিত হয়।
এই বিশ্বাস থেকেই বাংলায় এই ব্রতের প্রচলন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
উৎসবের সঙ্গে যোগসূত্র
নীলষষ্ঠী চৈত্র মাসের শেষের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচারগুলির একটি।
- এর পরদিন চৈত্র সংক্রান্তি পালিত হয়
- তারপর শুরু হয় বাংলা নববর্ষ
- গ্রামাঞ্চলে গাজন ও চড়ক উৎসব এই সময় বিশেষভাবে উদযাপিত হয়
সংক্ষেপে (Key Highlights)
- 📅 তারিখ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (সোমবার)
- 🙏 উদ্দেশ্য: সন্তানের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা
- 🪔 প্রধান রীতি: উপবাস, শিবপুজো, নীল বাতি
- 🌙 পুজোর সময়: সন্ধ্যা






