নিজস্ব প্রতিবেদন, ডিজিটাল ডেস্ক: মুখে যুদ্ধের হুঙ্কার, সাথে চরম অপমানজনক ও কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বর্তমানে আপাত যুদ্ধবিরতি চললেও, থামছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসলে কোনো অনিয়ন্ত্রিত রাগ নয়, বরং ট্রাম্প সচেতনভাবে ব্যবহার করছেন কয়েক দশক পুরনো এক রাজনৈতিক কৌশল— ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ (Madman Theory)।
কী এই ‘ম্যাডম্যান থিওরি’?
এই তত্ত্বের জনক বলা হয় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় তিনি এই কৌশল প্রথম প্রয়োগ করেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো— শত্রুপক্ষকে বিশ্বাস করানো যে, আমি একজন ‘উন্মাদ’। আমি যেকোনো মুহূর্তে চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারি, এমনকি পারমাণবিক হামলা চালাতেও দ্বিধাবোধ করব না। যখন প্রতিপক্ষ মনে করে বিপক্ষ নেতা ‘অপ্রেডিক্টেবল’ বা ক্ষ্যাপাটে, তখন তারা ভয়ে আপস করতে বাধ্য হয়।
ইরান সংকটে ট্রাম্পের চাল
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সেই সময় থেকে লাগাতার ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়া বা ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে এবং যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতেই তিনি এই ‘পাগলামি’র অভিনয় করছেন। লন্ডনের অধ্যাপক পিটার ট্রুবোয়িটজের কথায়, ট্রাম্প তাঁর এই উন্মাদ আচরণকেই কৌশলী সম্পদে পরিণত করেছেন।
ঝুঁকির মুখে মার্কিন কূটনীতি
তবে এই নীতি সবসময় কাজ করবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ইরানের মতো দেশ এই হুমকিতে সহজে দমে যায় না। বরং বারবার একই অস্ত্রের প্রয়োগে এর গুরুত্ব হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও, ট্রাম্পের এই ‘ম্যাডম্যান’ অবতার বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে।






