নিউজ ডেস্ক: হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথিতে পালিত হয় সংকষ্ঠী চতুর্থী। এই দিনটি উৎসর্গিত গণেশ উপাসনায়। ‘সংকষ্ঠী’ শব্দের অর্থ দুঃসময় থেকে মুক্তি, আর ‘চতুর্থী’ মানে চতুর্থ তিথি। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে উপবাস ও পূজা করলে বাধা-বিপত্তি কাটে, জীবনে আসে শান্তি, সমৃদ্ধি ও জ্ঞান।
কী সংকষ্ঠী চতুর্থী
পূর্ণিমা ও অমাবস্যার পরের চতুর্থ তিথিকে বলা হয় চতুর্থী। এর মধ্যে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী হল সংকষ্ঠী চতুর্থী এবং শুক্লপক্ষের চতুর্থী হল বিনায়ক চতুর্থী। যদি সংকষ্ঠী চতুর্থী মঙ্গলবার পড়ে, তা হলে তাকে অঙ্গারকি চতুর্থী বলা হয়। তামিলনাড়ুতে এই ব্রত পরিচিত সংকটহর চতুর্থী নামে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতেই শিব ঘোষণা করেন—সব দেবতার মধ্যে গণেশ সর্বাগ্রে পূজ্য। তাই পরিবারকল্যাণ, সুস্থতা ও মানসিক শান্তির জন্য বহু নারী-পুরুষ এই দিনে ব্রত পালন করেন। বলা হয়, নিষ্ঠা ও শুদ্ধচিত্তে প্রার্থনা করলে ইচ্ছাপূরণ হয়।
কীভাবে পালন হয়
- ভোরে উঠে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরা
- পরিচ্ছন্ন স্থানে গণেশ মূর্তি স্থাপন
- দূর্বা ঘাস ও ফুল নিবেদন
- মোদক, লাড্ডু সহ প্রিয় ভোগ অর্পণ
- সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার পর পূজা
- গণেশ মন্ত্র জপ ও ব্রতকথা পাঠ
মন্ত্র:
বক্রতুণ্ড মহাকায় সূর্যকোটি সমপ্রভ।
নির্বিঘ্নং কুরু মে দেব সর্বকার্যেষু সর্বদা।
উপবাসে কী খাওয়া যায়
উপবাসীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্জলা বা ফলাহার করতে পারেন। অনুমোদিত খাবারের মধ্যে রয়েছে—
- সাবুদানার খিচুড়ি
- তাজা ফল
- নুনছাড়া চিপস
- চিনেবাদাম
- আলু
বিনায়ক চতুর্থীর সঙ্গে পার্থক্য
- তিথি: কৃষ্ণপক্ষ—সংকষ্ঠী, শুক্লপক্ষ—বিনায়ক
- উদ্দেশ্য: সংকষ্ঠীতে দুঃসময় কাটানোর প্রার্থনা, বিনায়কে গণেশ বন্দনা
- নাম: সংকষ্ঠীকে সংকটহর চতুর্থীও বলা হয়; বিনায়ক পরিচিত বরদা বিনায়ক চতুর্থী নামে





