পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ভারত সরকার ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ইজরায়েলে থাকা ভারতীয়দের জন্য জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট সতর্কতা। আন্তর্জাতিক স্তরে একের পর এক দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মুহূর্তে মুহূর্তে বদলাচ্ছে। তাই ঝুঁকি এড়াতেই এই পদক্ষেপ।
কীভাবে বাড়ল উত্তেজনা?
▶️ ২০২3–24: গাজা যুদ্ধের পর উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
হামাস–ইজরায়েল যুদ্ধের পর থেকেই ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে প্রক্সি সংঘাত তীব্র হয়। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও সিরিয়ায় ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের সক্রিয়তা বাড়ে।
▶️ ২০২4 শেষ ভাগ: সরাসরি সংঘাতের ইঙ্গিত
ইজরায়েল একাধিকবার সিরিয়ায় ইরানপন্থী ঘাঁটিতে হামলা চালায়। পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান। দু’পক্ষই সামরিক প্রস্তুতি বাড়াতে শুরু করে।
▶️ ২০২6 জানুয়ারি: কূটনৈতিক অ্যালার্ট
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায়
🔴 ভারত সরকার ইরানে থাকা প্রায় ৯ হাজার ভারতীয়কে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেয়
🔴 ইজরায়েলে অপ্রয়োজনীয় সফর বন্ধ রাখতে বলা হয়
🔴 দূতাবাসগুলিকে ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু রাখতে নির্দেশ
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ইরান–ইজরায়েল সংঘাত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত সরাসরি যুদ্ধের রূপ নিলে —
- তেলের দাম বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে বাড়তে পারে
- ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলির জ্বালানি আমদানিতে বড় প্রভাব পড়বে
- হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বিশ্ব বাণিজ্যে ধাক্কা লাগবে
- উপসাগরীয় দেশে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে
শত্রু তালিকায় পাকিস্তান?
কূটনৈতিকভাবে সরাসরি “শত্রু দেশ” ঘোষণা না হলেও —
বিশ্লেষকদের মতে:
✔️ ইরান–পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা
✔️ শিয়া–সুন্নি ধর্মীয় বিভাজন
✔️ আফগানিস্তান ইস্যুতে মতবিরোধ
✔️ সীমান্তে হামলা–পাল্টা হামলার ঘটনা
এই কারণেই দু’দেশের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত ঠান্ডা ও সন্দেহপ্রবণ পর্যায়ে।
ভারতের উদ্বেগ কোথায়?
ভারতের জন্য তিনটি বড় চিন্তা—
1️⃣ প্রবাসী ভারতীয়
ইরান, ইজরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে লক্ষাধিক ভারতীয় কর্মরত।
2️⃣ জ্বালানি নিরাপত্তা
ভারতের তেল আমদানির বড় অংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে।
3️⃣ কূটনৈতিক ভারসাম্য
ইরান ও ইজরায়েল—দু’দেশের সঙ্গেই ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মত
বিদেশনীতি বিশ্লেষকদের মতে —
“এটা শুধু দু’টি দেশের যুদ্ধ নয়। এটি গোটা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। তাই ভারত আগেভাগেই নাগরিক সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে।”






