পুরুলিয়া:
নজিরবিহীন শীতের সাক্ষী রইল পুরুলিয়া জেলা। রবিবার সকালে ঝালদা ব্লকে খড়ের গাদার উপর সাদা তুষারের আস্তরণ দেখে অবাক হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি বলেই দাবি তাঁদের। খবর ছড়াতেই অল্প সময়ের মধ্যে ভিড় জমে যায় এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝালদা থেকে খামারমুখী রাস্তার ধারে রাখা খড়ের গাদার উপর প্রথমে হালকা তুষারের স্তর নজরে আসে প্রাতর্ভ্রমণকারীদের। এরপরই এলাকায় কৌতূহল বাড়ে। অনেকেই মোবাইলে সেই বিরল দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও তুলতে শুরু করেন।
এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। দিন দুয়েক আগে বান্দোয়ান ব্লকের পাহাড় ও জঙ্গলঘেরা এলাকায় ভোরবেলা মাটির উপর হালকা তুষারের আস্তরণ দেখতে পান স্থানীয়রা। একের পর এক এমন ঘটনার ফলে শীতের তীব্রতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকেই রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে শীতের দাপট শুরু হয়। নতুন বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহেও পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় শীতের প্রকোপ কমেনি। বাঁকুড়ায় রাতের তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পুরুলিয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠোর—শহরাঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। গ্রামাঞ্চলে শীতের দাপট আরও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বান্দোয়ান ও ঝালদা ব্লকের পাহাড়ি ও পাথুরে এলাকায় মাঝেমধ্যেই তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছচ্ছে। সেই কারণেই কোথাও কোথাও ভূমি তুষার বা ফ্রস্ট (Ground Frost) দেখা যাচ্ছে। যদিও এটিকে প্রকৃত তুষারপাত বলা যায় না, তবে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে এমন দৃশ্য অত্যন্ত বিরল।
চলতি মরসুমের শীতলতম দিন ছিল মঙ্গলবার। সেদিন শহরের তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। উল্লেখ্য, এই শতকে পুরুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি—৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি শীতে সেই রেকর্ড এখনও ভাঙেনি।






