লগ্নজিতাকে হেনস্থা: অভিযুক্ত স্কুলমালিক গ্রেফতার, বিভাগীয় তদন্তের মুখে ভগবানপুর থানার ওসি

লগ্নজিতাকে হেনস্থা: অভিযুক্ত স্কুলমালিক গ্রেফতার, বিভাগীয় তদন্তের মুখে ভগবানপুর থানার ওসি

পূর্ব মেদিনীপুরে সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী-কে হেনস্থার ঘটনায় গ্রেফতার হল মূল অভিযুক্ত স্কুলমালিক। ঘটনার পর ভগবানপুর থানার ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জেরে থানার ওসি শাহেনশাহ হকের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত মেহবুব মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ভগবানপুর থানার অন্তর্গত বেলুদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাউথ পয়েন্ট পাবলিক স্কুলের মালিক। একই সঙ্গে এই ঘটনার সামগ্রিক তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসডিপিও স্তরের এক আধিকারিককে।

কী ঘটেছিল?

শনিবার ভগবানপুর থানার এলাকার সাউথ পয়েন্ট পাবলিক স্কুলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েছিলেন লগ্নজিতা চক্রবর্তী। অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন ‘দেবী চৌধুরাণী’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘জাগো মা’ পরিবেশনের কিছু ক্ষণ পর দর্শকাসন থেকে এক ব্যক্তি উঠে এসে মঞ্চে চড়াও হন। গায়িকার অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তাঁকে মারধর করার চেষ্টা করেন এবং অভব্য আচরণ করেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই উপস্থিত অন্যরা তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার পর লগ্নজিতা আর গান পরিবেশন করেননি।

গায়িকার অভিযোগ

লগ্নজিতার বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথম তিনটি গান নির্বিঘ্নে হয় এবং তাঁকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে সপ্তম গান শেষ করার পর অষ্টম গানে যাওয়ার আগে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। সেই সময়ই অভিযুক্ত আচরণ করেন বলে দাবি।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার পর রাতেই ভগবানপুর থানায় যান লগ্নজিতা। তাঁর অভিযোগ, থানায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হলেও প্রথমে এফআইআর দায়ের করা হয়নি। তাঁকে জেনারেল ডায়েরি করতে বলা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়।

বিরোধী দলের অভিযোগ, অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও জেলা পুলিশের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

কী জানাল জেলা পুলিশ?

পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে জানান,

  • অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে
  • থানার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে
  • অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশের অনুমতি ছিল কি না
  • থাকলে সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল কি না

এই সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের বক্তব্য, “এই ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে।”

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!