লালবাজারে জুনিয়র চিকিৎসকদের বিক্ষোভ: নগরপালের ইস্তফার দাবি, পুলিশের সাথে টানটান উত্তেজনা

লালবাজারে জুনিয়র চিকিৎসকদের বিক্ষোভ: নগরপালের ইস্তফার দাবি, পুলিশের সাথে টানটান উত্তেজনা

কলকাতা: নগরপালের পদত্যাগের দাবিতে লালবাজারের সামনে রাস্তায় বসে পড়েন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত, তবে দুপুর দুটোর দিকে লালবাজারের কাছে পৌঁছামাত্রই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের মিছিল আটকে দেয়। ব্যারিকেডের সামনে বসে পড়েই নিজেদের প্রতিবাদ জানান চিকিৎসকরা।

বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, নগরপাল বিনীত গোয়েলকে এসে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে এবং তাঁদের মিছিল বেনটিঙ্ক স্ট্রিট পর্যন্ত যেতে দিতে হবে। তবে পুলিশ তাদের এই দাবি মানতে নারাজ। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয় যে, একটি প্রতিনিধি দল নগরপালের সাথে দেখা করতে পারে, কিন্তু বিক্ষোভকারীরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নগরপাল যতক্ষণ না পদত্যাগ করবেন, তাঁরা রাস্তা ছাড়বেন না।

বিক্ষোভকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের মতে, “পুলিশ আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। আমরা ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা টানা নাইট ডিউটি করি। রাত জাগা আমাদের পক্ষে কোনো বড় বিষয় নয়।”

পুলিশ আবার প্রস্তাব করে যে, নগরপালের পরিবর্তে অ্যাডিশনাল সিপি (১) এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন। যদিও এই প্রস্তাবে রাজি হয় জুনিয়র চিকিৎসকরা, কিন্তু তাঁরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ।

জুনিয়র চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, তাঁদের বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য পূর্বে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল যে, তাঁরা বেনটিঙ্ক স্ট্রিট পর্যন্ত যেতে পারবেন। কিন্তু এদিন তাঁদের মিছিল ফিয়ার্স লেনের কাছে আটকে দেওয়া হয়।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে চেয়ারে বসে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ভোররাত পৌনে চারটের দিকে জুনিয়র চিকিৎসকরা জাতীয় সঙ্গীত গাইতে শুরু করলে পুলিশকর্মীরা দ্রুত উঠে দাঁড়ান। এটি ছিল বিক্ষোভকারীদের পরিকল্পনা, যাতে পুলিশকর্মীদের দাঁড় করানো যায়।

বিক্ষোভকারীরা ডিউটিতে থাকা পুলিশকর্মীদের জন্য জল এবং বিস্কুট নিয়ে গেলেও, পুলিশ তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।

জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি জুনিয়র চিকিৎসকরা “পুলিশ চোরের প্রেমে পড়েছে” গানও গেয়ে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভের মধ্যেই রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল, সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং দেবলীনা দত্ত।

জুনিয়র চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নগরপাল বিনীত গোয়েল পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।

বিক্ষোভে এসে প্রাক্তন বিচারপতি এবং বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে বিক্ষোভকারীরা ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে আন্দোলনস্থল ছাড়তে বাধ্য করেন। যদিও তিনি পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং সমব্যথী।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!